ব্রেকিং নিউজ

ব্রেকিং নিউজ

চট্টগ্রামের করলডেঙ্গায় মেধস মুনির আশ্রম: ইতিহাস, ঐতিহ্য ও বর্তমান ভূমি সংকট

চট্টগ্রামের করলডেঙ্গায় মেধস মুনির আশ্রম: ইতিহাস, ঐতিহ্য ও বর্তমান ভূমি সংকট

সনাতন ধর্মাবলম্বীদের সবচেয়ে বড় উৎসব দুর্গাপূজার আদি সূচনাস্থল নিয়ে রয়েছে পৌরাণিক নানা আখ্যান। ধর্মীয় বিশ্বাস অনুযায়ী, মর্ত্যলোকে দেবী দুর্গার প্রথম আরাধনা হয়েছিল বাংলাদেশের চট্টগ্রামের বোয়ালখালী উপজেলার করলডেঙ্গা পাহাড়ে অবস্থিত শ্রীশ্রী চণ্ডীতীর্থ ও মেধস মুনির আশ্রমে। দেবী মাহাত্ম্য বা চণ্ডীর বর্ণনা অনুসারে, প্রাচীনকালে রাজ্যহারা রাজা সুরথ এবং বৈশ্য সমাধি ঋষি মেধসের আশ্রমে আশ্রয় নিয়েছিলেন। পরবর্তীতে ঋষির পরামর্শে তারা ওই চণ্ডীতীর্থের নির্জন পরিবেশে প্রথম মৃন্ময়ী দশভূজা দুর্গা প্রতিমা তৈরি করে তপস্যা শুরু করেন। সনাতন ধর্মাবলম্বীদের বিশ্বাস, এই আখ্যান থেকেই পরবর্তী সময়ে বাসন্তী ও শারদীয় দুর্গাপূজার সূচনা হয়েছে। ঐতিহাসিক এই আশ্রমটি কালের পরিক্রমায় এক সময় লোকচক্ষুর অন্তরালে চলে গিয়েছিল। ১৯০০ খ্রিষ্টাব্দে বরিশাল থেকে আসা সাধক শ্রীমৎ বেদানন্দ স্বামী প্রাচীন তান্ত্রিক পুঁথিপত্র ও যোগবলের সহায়তায় সীতাকুণ্ডের চন্দ্রনাথধাম থেকে এই পাহাড়ে পৌঁছান। স্থানীয় অন্নদাচরণ সর্ববিদ্যাকে সঙ্গে নিয়ে তিনি প্রায় ৫০০ ফুট উঁচু পাহাড়ের চূড়ায় এই স্থানটি পুনর্গঠন করেন। পরবর্তীতে কাশিমবাজারের মহারাজা মনীন্দ্রচন্দ্র নন্দী এবং মিয়ানমারের পুলিশ কর্মকর্তা যোগেন্দ্রনাথ ভট্টাচার্যসহ অনেকের সহযোগিতায় সেখানে চণ্ডী মন্দির, পিতলের দশভূজা প্রতিমা, শিব ও কালী মন্দির নির্মিত হয়। তবে ১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধের সময় পাকিস্তানি হানাদার বাহিনী ও দুষ্কৃতকারীদের হামলায় মূল পিতলের মূর্তিটি লুট হয় এবং অবকাঠামোর ক্ষতি হয়। পরবর্তীতে ১৯৮৭ সালে স্থানীয় সমাজসেবকদের উদ্যোগে পাথরের প্রতিমা প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে সেখানে পূজার ধারাবাহিকতা ফিরিয়ে আনা হয়। বর্তমানে এই তীর্থস্থানে মূল চণ্ডী মন্দির ছাড়াও স্বামী বেদানন্দের সমাধিসৌধ, কামাখ্যা মন্দির, তারা কালী মন্দির, সীতা মন্দির এবং মানস সরোবর রয়েছে। তবে বর্তমানে আশ্রমটি বড় ধরনের ভূমি সংকটের মুখে পড়েছে। অভিযোগ রয়েছে, ৬৮ দশমিক ১৯ একর দেবোত্তর সম্পত্তির মধ্যে প্রায় ৫৫ একর জমিও স্থানীয় প্রভাবশালীরা অবৈধভাবে দখল করে নিয়েছেন। আদালতের নিষেধাজ্ঞা থাকা সত্ত্বেও এই দখলদারিত্ব আশ্রমের সুরক্ষায় বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। একই সঙ্গে প্রাচীন নথি সংরক্ষণ, পাহাড়ের ঢাল ও প্রাকৃতিক বনভূমি রক্ষা এবং ভক্তদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দাবি জানানো হয়েছে।

সংক্ষেপে:
চট্টগ্রামের বোয়ালখালীর করলডেঙ্গা পাহাড়ে অবস্থিত ঐতিহাসিক মেধস মুনির আশ্রম ও চণ্ডীতীর্থের ইতিহাস, ঐতিহ্য এবং বর্তমান ভূমি সংকট নিয়ে বিস্তারিত প্রতিবেদন।
চট্টগ্রামের করলডেঙ্গায় মেধস মুনির আশ্রম: ইতিহাস, ঐতিহ্য ও বর্তমান ভূমি সংকট

0 Comments