কক্সবাজারের চকরিয়া ও নবগঠিত মাতামুহুরী উপজেলায় পোল্ট্রি মুরগির খামার পরিচালনা করতে গিয়ে তীব্র আর্থিক সংকটের মুখে পড়েছেন প্রান্তিক খামারিরা। মুরগির খাদ্য, ওষুধ, বাচ্চা এবং অন্যান্য প্রয়োজনীয় উপকরণের দাম অস্বাভাবিকভাবে বেড়ে যাওয়ায় উৎপাদন খরচ বহুগুণ বৃদ্ধি পেয়েছে। এর বিপরীতে বাজারে মুরগি বিক্রি করে কাঙ্ক্ষিত দাম না পাওয়ায় তাদের বড় অঙ্কের লোকসান গুণতে হচ্ছে। ফলে পুঁজি হারিয়ে অনেকেই ব্যবসা গুটিয়ে নিতে বাধ্য হচ্ছেন। খামারিদের তথ্য অনুযায়ী, আগে যে প্রতি বস্তা মুরগির খাদ্য ৩ হাজার ৫০০ টাকায় বিক্রি হতো, তা বর্তমানে ৩ হাজার ৮০০ টাকায় কিনতে হচ্ছে। অর্থাৎ প্রতি বস্তায় ৩০০ টাকা দাম বেড়েছে। খাদ্যের পাশাপাশি ওষুধ, বয়লার মুরগির বাচ্চা ও খামারে ব্যবহৃত অন্যান্য উপকরণের দামও ঊর্ধ্বমুখী। ফলে ক্ষুদ্র ও প্রান্তিক খামারিরা উৎপাদন খরচ মেলাতে গিয়ে বেকায়দায় পড়েছেন। খামারিদের অভিযোগ, চড়া দামে বাচ্চা কিনে কয়েক সপ্তাহ ধরে লালন-পালন করার পর বাজারে বিক্রির সময় ন্যায্যমূল্য পাওয়া যায় না। এতে খাবার, ওষুধ, বিদ্যুৎ ও শ্রমিকের খরচ পরিশোধ করার পর লাভের মুখ দেখা তো দূরের কথা, অনেক সময় মূলধনও ওঠে আসে না। মাতামুহুরী উপজেলার প্রান্তিক খামারি মোহাম্মদ মাশুক এলাহী জানান, পোল্ট্রি মুরগির খামার করতে গিয়ে তাকে লক্ষ লক্ষ টাকা লোকসান দিতে হয়েছে। অতিরিক্ত লোকসানের কারণে শেষ পর্যন্ত খামার বন্ধ করে দিয়ে তিনি জীবিকা নির্বাহের জন্য বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে চাকরি নিচ্ছেন। নিজের পায়ে দাঁড়ানোর স্বপ্ন নিয়ে এ ব্যবসায় নামলেও লোকসান সহ্য করতে না পেরে তাকে এই পথ বেছে নিতে হয়েছে। তিনি সতর্ক করে বলেন, এভাবে চলতে থাকলে আরও অনেক খামারি ব্যবসা বন্ধ করতে বাধ্য হবেন। চকরিয়া উপজেলার আরেক প্রান্তিক খামারি মোহাম্মদ ইদ্রিস জানান, খাদ্য, ওষুধ ও বাচ্চার দাম বেড়ে যাওয়ায় আগের তুলনায় অনেক বেশি বিনিয়োগ করতে হচ্ছে, অথচ মুরগি বিক্রির সময় সেই অনুপাতে দাম মিলছে না। প্রান্তিক খামারিদের পুঁজি সীমিত হওয়ায় একবার বড় লোকসান হলে তা কাটিয়ে ওঠা কঠিন হয়ে পড়ে। তাই খামারিদের টিকিয়ে রাখতে সরকারি সহযোগিতার দাবি জানান তিনি। চকরিয়া উপজেলা প্রাণিসম্পদ সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের কর্মকর্তা আরিফ উদ্দিন বলেন, পোল্ট্রি খামারিদের সমস্যা সমাধানে উৎপাদন খরচ, খামারের ব্যবস্থাপনা এবং মুরগির স্বাস্থ্য সুরক্ষার বিষয়গুলো অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে দেখা প্রয়োজন। খামারিদের সঠিক নিয়মে মুরগি পালন, রোগ প্রতিরোধ ও প্রয়োজনীয় পরামর্শ গ্রহণের বিষয়ে সচেতন থাকার তাগিদ দিয়ে তিনি বলেন, প্রাণিসম্পদ দপ্তরের পরামর্শ ও সহযোগিতা নিয়ে খামার পরিচালনা করলে উৎপাদন ব্যবস্থাপনার উন্নতি এবং বিভিন্ন ঝুঁকি মোকাবিলা করা সম্ভব হবে। সংকট নিরসনে প্রান্তিক খামারিরা সরকারের কার্যকর উদ্যোগ কামনা করেছেন। তাদের দাবি, মুরগির খাদ্য, বাচ্চা, ওষুধ ও অন্যান্য উপকরণের দাম সহনীয় পর্যায়ে রাখতে হবে এবং উৎপাদন খরচের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে মুরগির ন্যায্য বাজারমূল্য নিশ্চিত করতে হবে। পাশাপাশি সহজ শর্তে ঋণ প্রদান এবং ক্ষতিগ্রস্ত খামারিদের জন্য বিশেষ সহায়তার ব্যবস্থা করার দাবি জানিয়েছেন তারা। খামারিদের মতে, পোল্ট্রি খাতের সংকট দ্রুত নিরসন না হলে প্রান্তিক খামার বন্ধ হওয়ার পাশাপাশি কর্মসংস্থান ও প্রাণিজ আমিষের জোগানও মারাত্মকভাবে ব্যাহত হতে পারে।
কক্সবাজারের চকরিয়া ও মাতামুহুরীতে খাদ্য ও ওষুধের দাম বাড়ায় এবং ন্যায্যমূল্য না পাওয়ায় চরম লোকসানে পড়েছেন পোল্ট্রি খামারিরা। পুঁজি হারিয়ে অনেকেই খামার বন্ধ করে দিতে বাধ্য হচ্ছেন।


0 Comments