ব্রেকিং নিউজ

ব্রেকিং নিউজ

তামাক খেত ছেড়ে গোলাপ চাষে বিপ্লব কক্সবাজারের চকরিয়ায়

তামাক খেত ছেড়ে গোলাপ চাষে বিপ্লব কক্সবাজারের চকরিয়ায়

একসময় যে বিস্তীর্ণ মাঠ তামাকের পাতায় ঢাকা থাকত, সেই জমিতেই এখন ফুটছে সারি সারি লাল, হলুদ ও সাদা গোলাপ। তামাকের ঝাঁঝালো গন্ধের বদলে কক্সবাজারের চকরিয়া উপজেলার বরইতলী ইউনিয়নের বাতাসে এখন বইছে গোলাপের সুবাস। ক্ষতিকর তামাক চাষ ছেড়ে পরিবেশবান্ধব ও লাভজনক ফুল চাষে ঝুঁকে এখানকার কৃষকরা তৈরি করেছেন গোলাপ গ্রাম বা গোলাপ পল্লী। উপজেলা কৃষি অফিসের তথ্য অনুযায়ী, বরইতলী ও পার্শ্ববর্তী হারবাং ইউনিয়নের ১০৫ একরেরও বেশি জমিতে বাণিজ্যিকভাবে গোলাপ চাষ হচ্ছে এবং এর সঙ্গে সরাসরি জড়িত দুই শতাধিক চাষি পরিবার। আশির দশকের মাঝামাঝি সময়ে বরইতলীর কয়েকজন কৃষক শখের বসে পরীক্ষামূলকভাবে এই চাষ শুরু করেন। আবহাওয়া ও মাটি উপযোগী হওয়ায় সাফল্য আসে এবং ধীরে ধীরে বাড়তে থাকে বাগানের পরিধি। বর্তমানে উত্তর ও দক্ষিণ পাড়া, একতা বাজার ও ডেইঙ্গাকাটাসহ বিভিন্ন এলাকায় রয়েছে অসংখ্য গোলাপ বাগান। অক্টোবর মাস থেকেই বাগানগুলোয় চারা রোপণ, ডাল ছাঁটাই ও সার প্রয়োগের ব্যস্ততা শুরু হয়। ডিসেম্বর থেকে এপ্রিল পর্যন্ত চলা প্রধান মৌসুমে ইংরেজি নববর্ষ, ১৬ ডিসেম্বর, বসন্ত উৎসব, ভালোবাসা দিবস ও মাতৃভাষা দিবসকে কেন্দ্র করে ফুলের চাহিদা বহুলাংশে বাড়ে। এখানকার বাগান থেকে প্রতিদিন লাখ লাখ টাকার গোলাপ চট্টগ্রাম, ঢাকা ও কক্সবাজারসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে পাঠানো হয়। বরইতলী গোলাপ বাগান মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক ও ফুলচাষি মঈনুল ইসলাম জানান, তামাকের তুলনায় গোলাপ চাষে স্বাস্থ্যঝুঁকি ও পরিশ্রম কম এবং লাভ অনেক বেশি। এক বিঘা জমিতে গোলাপ চাষ করে তামাকের চেয়ে কয়েকগুণ বেশি আয় করা সম্ভব। তবে সংরক্ষণ ও বাজারজাতকরণে অবকাঠামোগত সীমাবদ্ধতার কথা উল্লেখ করে তিনি জানান, কৃত্রিম ফুলের বাজার বৃদ্ধি এবং সংরক্ষণ সুবিধার অভাবে প্রতি বছর শুধু বরইতলী ইউনিয়নেই প্রায় ৩০ থেকে ৩৫ লাখ গোলাপ নষ্ট হয়। এলাকায় হিমাগার, সংরক্ষণ ও প্রক্রিয়াজাতকরণ কেন্দ্র এবং সুগন্ধি তৈরির ব্যবস্থা করা গেলে এই অপচয় রোখা সম্ভব হবে। শুধু জীবিকা নয়, শীত মৌসুমে রঙিন এই বাগানগুলো দেখতে আসা দর্শনার্থীদের ভিড়ে এলাকাটিতে কৃষি-পর্যটন বা অ্যাগ্রো-ট্যুরিজমের সম্ভাবনাও তৈরি হয়েছে। চকরিয়া উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা শাহানাজ ফেরদৌসী জানান, তামাক চাষ থেকে গোলাপ চাষে এই রূপান্তর ইতিবাচক পরিবর্তনের ইঙ্গিত। কৃষি বিভাগ থেকে চাষিদের আধুনিক পদ্ধতি ও রোগবালাই দমনে কারিগরি সহায়তা দেওয়া হচ্ছে এবং হিমাগার স্থাপনের বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে। সঠিক পৃষ্ঠপোষকতা পেলে এই অঞ্চল দেশের অন্যতম বড় ফুল উৎপাদনকেন্দ্রে পরিণত হতে পারে।

সংক্ষেপে:
তামাক চাষের ক্ষতিকর পথ ছেড়ে কক্সবাজারের চকরিয়ার বরইতলী ইউনিয়নে গড়ে উঠেছে গোলাপ গ্রাম। বাণিজ্যিকভাবে লাভজনক এই ফুল চাষ বদলে দিয়েছে এলাকার অর্থনীতি ও পরিবেশ।
তামাক খেত ছেড়ে গোলাপ চাষে বিপ্লব কক্সবাজারের চকরিয়ায়

0 Comments