যশোরের মনিরামপুর উপজেলার আগরহাটি গ্রামে পুকুরের ওপর বাঁশ ও কাঠের খুঁটিতে তৈরি একটি নড়বড়ে ও ঝুঁকিপূর্ণ দোকানে বসবাস করছেন ৯০ বছর বয়সী অসুস্থ বৃদ্ধা নবীরুন্নেসা। যেকোনো মুহূর্তে ঘরটি ভেঙে পুকুরে পড়ার আশঙ্কা রয়েছে। সেখানে নেই কোনো বিছানা, বালিশ কিংবা নিরাপদ আশ্রয়ের ব্যবস্থা। চরম অনিশ্চয়তা ও শঙ্কার মধ্য দিয়ে তার দিন কাটছে। বয়সের ভারে ন্যুব্জ নবীরুন্নেসা দিনেও ঝাপসা দেখেন এবং সন্ধ্যার পর সম্পূর্ণ দৃষ্টিশক্তি হারিয়ে ফেলেন। একা চলাচলের ক্ষমতা না থাকায় প্রতিবেশীদের দেওয়া খাবারের ওপর নির্ভর করতে হয় তাকে, অনেক সময় না খেয়েও কাটে রাত। নবীরুন্নেসা জানান, ১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধ চলাকালীন তার স্বামী হবিবুর রহমান নিখোঁজ হন। এরপর দুই সন্তানকে নিয়ে তিনি বেনাপোল থেকে নিজের বাবার বাড়ি আগরহাটিতে চলে আসেন। বাবার বাড়ির সামান্য জমি বিক্রি করে দুই মেয়ের বিয়ে দিলেও প্রায় ২০ বছর আগে দারিদ্র্য ও যৌতুকের কারণে এক মেয়ে আত্মহত্যা করেন এবং অপর মেয়ের সংসারেও তীব্র অভাব রয়েছে। সব হারিয়ে নিঃস্ব হয়ে পড়ার পর প্রায় ২২ বছর আগে এক ভাতিজা তাকে একটি পরিত্যক্ত কাঠের দোকান এনে দেন। নিজস্ব জমি না থাকায় একটি যৌথ পুকুরের ওপর সেটি স্থাপন করে তার থাকার ব্যবস্থা করা হয়। নবীরুন্নেসা কান্নাবিজড়িত কণ্ঠে বলেন, ঘর ভেঙে পড়ার উপক্রম হয়েছে, এখন তিনি কোথায় যাবেন এবং কী খাবেন। তার ইচ্ছে, যদি চোখের দৃষ্টি ফিরে পেতেন তবে অন্যের বোঝা না হয়ে নিজে চেয়েচিন্তে খেতে পারতেন। স্থানীয় ওয়ার্ড বিএনপি নেতা ও নবীরুন্নেসার ভাতিজা মামুনুর রশীদ মিন্টু জানান, পরিবারের সামর্থ্য অনুযায়ী তারা সহযোগিতার চেষ্টা করলেও সরকারি সহায়তা ও স্থায়ী আশ্রয় ছাড়া এই সমস্যার সমাধান সম্ভব নয়। নবীরুন্নেসার এমন মানবেতর জীবন স্থানীয়দের মাঝে উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে। তার জন্য একটি নিরাপদ আশ্রয়, চোখের চিকিৎসা এবং নিয়মিত খাদ্যের সংস্থান করতে প্রশাসন ও সমাজের বিত্তবানদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন এলাকাবাসী।
যশোরে পুকুরের ওপর একটি ঝুপড়ি দোকানে চরম মানবেতর জীবন কাটাচ্ছেন ৯০ বছরের দৃষ্টিপ্রতিবন্ধী বৃদ্ধা নবীরুন্নেসা। তার নিরাপদ আশ্রয় ও চিকিৎসার জন্য প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন স্থানীয়রা।


0 Comments