ব্রেকিং নিউজ

ব্রেকিং নিউজ

রবীন্দ্রনাথ ও নজরুলের পারস্পরিক সৌহার্দ্যপূর্ণ সম্পর্ক এবং স্নেহের অনন্য উপাখ্যান

রবীন্দ্রনাথ ও নজরুলের পারস্পরিক সৌহার্দ্যপূর্ণ সম্পর্ক এবং স্নেহের অনন্য উপাখ্যান

বাংলা সাহিত্যের দুই প্রধান কবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর ও কাজী নজরুল ইসলামের মধ্যে পারস্পরিক সৌহার্দ্য, ভালোবাসা, স্নেহ ও শ্রদ্ধার সম্পর্ক ছিল। মুজফ্ফর আহ্‌মদের ‘কাজী নজরুল ইসলাম: স্মৃতিকথা’ গ্রন্থে উল্লেখ করা হয়েছে যে নজরুল মূলত রবীন্দ্রসংগীত গাইতেন এবং এত বেশি রবীন্দ্রসংগীত তাঁর মুখস্থ ছিল যে তাঁকে রবীন্দ্রসংগীতের হাফিজ বলা হতো। ১৯১৭ সালে করাচির সেনানিবাসে রচিত ‘ব্যথার দান’ গল্পে নজরুলের রবীন্দ্রসংগীতের উদ্ধৃতি ব্যবহার প্রসঙ্গে গবেষক রফিকুল ইসলাম উল্লেখ করেছেন যে তৎকালীন ১৮ থেকে ২০ বছর বয়সী একজন যুবকের এমন পরিশীলিত রুচি অবাক করার মতো। ১৯২০ সালে ‘মোসলেম ভারত’ পত্রিকায় প্রকাশিত নজরুলের তিনটি কবিতা রবীন্দ্রনাথের দৃষ্টি আকর্ষণ করে এবং তিনি তাঁর একান্ত সচিব সুধাকান্ত রায় চৌধوریর মারফত নজরুলের কবিতার নিয়মিত খোঁজখবর রাখতেন। ড. বাঁধন সেনগুপ্তের ‘কবি নজরুল ও অন্যান্য প্রসঙ্গ’ গ্রন্থ অনুযায়ী, উগ্র হিন্দু ও মুসলিম সম্প্রদায় কর্তৃক নজরুল আক্রান্ত হওয়ার সময় রবীন্দ্রনাথ তাঁকে স্নেহছায়ায় আগলে রেখেছিলেন। ২৪ বছর বয়সে আলীপুর জেলে কারারুদ্ধ থাকা অবস্থায় রবীন্দ্রনাথ তাঁর সদ্য প্রকাশিত ‘বসন্ত’ গীতিনাট্যটি পবিত্র গঙ্গোপাধ্যায়ের মাধ্যমে নজরুলকে উৎসর্গ করেন এবং উৎসর্গপত্রে তাঁকে কবি বলে অভিহিত করেন। রবীন্দ্রপ্রেমীদের একাংশ এর প্রতিবাদ করলে রবীন্দ্রনাথ জানান যে তাঁরা নজরুলের কবিতা না পড়েই এমন মনোভাব পোষণ করেছেন। কিছু সমালোচক নজরুল সম্পর্কে কবিগুরুর মূল্যায়নকে অতি মূল্যায়ন মনে করলেও রবীন্দ্রনাথ বলেছিলেন যে যুগের মনকে যা প্রতিফলিত করে তা মহাকাব্য। তরুণ কবি যাতে আবেগের বশে বা সাম্প্রদায়িক চরমপন্থীদের দ্বারা আক্রান্ত হয়ে কাব্যচর্চা বন্ধ না করে, সে বিষয়ে রবীন্দ্রনাথ সর্বদা উদ্বিগ্ন ছিলেন এবং শিলং থেকে জেলখানায় অনশনরত নজরুলকে টেলিগ্রাম করেও তাঁর অনশন ভাঙার আহ্বান জানিয়েছিলেন, যা কারা কর্তৃপক্ষের কারণে ফেরত আসে। পরবর্তীতে পুত্র রথীন্দ্রনাথ ঠাকুরকে পাঠানো এক চিঠিতে রবীন্দ্রনাথ এ নিয়ে গভীর দুঃখ ও ক্ষোভ প্রকাশ করেন। জনপ্রিয়তার দিক দিয়ে নজরুল রবীন্দ্রনাথকেও ছাড়িয়ে গিয়েছিলেন, যার স্বীকৃতি দিয়ে ১৯৩৪ সালের ১৭ আগস্ট হেমন্তবালা দেবীকে লেখা এক চিঠিতে রবীন্দ্রনাথ উল্লেখ করেছিলেন যে তাঁর কবিতার চেয়ে নজরুলের কবিতা কেউ বেশি পছন্দ করলেও তিনি তাকে বিন্দুমাত্র কম স্নেহ করেন না। কাজী নজরুল ইসলামও অন্যদের কবিগুরুর লেখা পড়তে উদ্বুদ্ধ করতেন এবং ১৯২৬ সালে শাসন্নাহার মাহমুদকে লেখা এক চিঠিতে তিনি বড় কবির কাব্য পড়ার প্রয়োজনীয়তার কথা উল্লেখ করেন। পরবর্তীতে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের প্রয়াণে নজরুল ‘রবিহারা’ কবিতা রচনার পাশাপাশি কলকাতা বেতারে ঐতিহাসিক সংগীত পরিবেশন করেছিলেন।

সংক্ষেপে:
বাংলা সাহিত্যের দুই দিকপাল রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর ও কাজী নজরুল ইসলামের মধ্যকার পারস্পরিক সৌহার্দ্য, স্নেহ ও শ্রদ্ধার সম্পর্কের নানা দিক উঠে এসেছে প্রথিতযশা গবেষকদের তথ্যে।
রবীন্দ্রনাথ ও নজরুলের পারস্পরিক সৌহার্দ্যপূর্ণ সম্পর্ক এবং স্নেহের অনন্য উপাখ্যান

0 Comments