পরিবারের সদস্যদের নামাজের নির্দেশ দেওয়ার নির্দেশ রয়েছে পবিত্র কোরআনে। তবে ভাইবোন বা সন্তানদের ক্ষেত্রে এটি সহজ হলেও মা-বাবাকে নামাজের দাওয়াত দেওয়ার বিষয়টি বেশ সংবেদনশীল। ইসলামে মা-বাবার স্থান সবার ওপরে থাকায় তাঁদের ভুল শুধরে দেওয়া বা নেক কাজের দাওয়াত দেওয়ার ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ শিষ্টাচার বজায় রাখার তাগিদ দেওয়া হয়েছে। ইসলামী বিধান ও পরামর্র্শ অনুযায়ী মা-বাবাকে নামাজের দাওয়াত দেওয়ার কিছু কার্যকর উপায় রয়েছে। মা-বাবাকে নামাজের কথা বলার সময় সন্তানের ভাষা ও আচরণ অত্যন্ত নম্র হওয়া উচিত। কোনো অবস্থাতেই মুরব্বি সাজার চেষ্টা করা যাবে না। কোরআনে মা-বাবার সঙ্গে সম্মানসূচক কথা বলার নির্দেশ রয়েছে। পিতা আজরকে ইমান ও ইবাদতের দাওয়াত দেওয়ার সময় নবী ইব্রাহিম অত্যন্ত মধুর ভাষা ব্যবহার করেছিলেন। ইমাম কুরতুবি উল্লেখ করেছেন, পিতা-মাতাকে সৎকাজের আদেশ বা অন্যায় থেকে বারণ করার সময় সন্তানের ভাষা বিনয়ী হওয়া আবশ্যক এবং রূঢ় আচরণ করা যাবে না। তাঁরা দাওয়াত গ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বা রাগ করলেও সন্তানকে শ্রদ্ধাশীল থাকতে হবে। মানুষ কথার চেয়ে কাজের মাধ্যমে বেশি প্রভাবিত হয়। সন্তান নিজে পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ আদায় করলে এবং তার চরিত্রে ইতিবাচক পরিবর্তন এলে মা-বাবা প্রাকৃতিকভাবেই প্রভাবিত হন। মহানবী হজরত মুহাম্মদ (সা.) বলেছেন, উত্তম চরিত্রই হলো শ্রেষ্ঠ নেক আমল। সুন্দর চরিত্র সবচেয়ে শক্তিশালী নীরব দাওয়াত হিসেবে কাজ করে। অনেক সময় সন্তানের জায়নামাজে বসে মোনাজাত করা দেখেও মা-বাবার হৃদয় নরম হতে পারে। সরাসরি নামাজের কথা বলা অনেক সময় মা-বাবার আত্মসম্মানে আঘাত হানতে পারে, তাই কৌশলগত পদ্ধতি হিসেবে আজানের জবাব দেওয়া, কোরআন পাঠ করা বা মাকে ফজরের সময় ডেকে দেওয়ার অনুরোধ করার মাধ্যমে দায়িত্ববোধ তৈরি করা যায়। অন্তরে সুপথের আলো দেওয়া আল্লাহর হাতে, তাই দাওয়াতের পাশাপাশি শেষরাতে মা-বাবার জন্য দোয়া করা অত্যন্ত জরুরি। ইবনুল কাইয়িম আল-জাওজিয়া লিখেছেন, আল্লাহর কাছে গভীর রাতের দোয়া মানুষের অন্তরে দ্রুত পরিবর্তন আনে। মা-বাবাকে একবার বা দুবার বলেই হাল ছেড়ে দেওয়া যাবে না। তাঁরা বিরক্ত হলে বা বকাঝকা করলেও কোনোভাবেই তর্ক করা যাবে না। কোরআনে বলা হয়েছে, তারা কুফরি বা শিরক করতে পীড়াপীড়ি করলেও দুনিয়াতে তাদের সঙ্গে সদ্ভাবে বসবাস করতে হবে। জোরজবরদস্তি বা তর্কের পরিবর্তে ভালোবাসা, সেবা এবং প্রার্থনার মাধ্যমেই মা-বাবাকে নামাজের প্রতি আকৃষ্ট করা সম্ভব।
পিতা-মাতাকে নামাজের দাওয়াত দেওয়ার ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ শিষ্টাচার, নম্র ভাষা ও বুদ্ধিমত্তার পরিচয় দেওয়ার তাগিদ দেওয়া হয়েছে। জেনে নিন মা-বাবাকে নামাজের প্রতি উদ্বুদ্ধ করার কিছু কার্যকর উপায়।


0 Comments