বিকল্প আবাসন ও পুনর্বাসনের ব্যবস্থা না করে স্যার সলিমুল্লাহ মেডিকেল কলেজ ও মিটফোর্ড হাসপাতালের সুইপার কলোনিতে বসবাসরত পরিচ্ছন্নতাকর্মী ও হরিজন সম্প্রদায়ের পরিবারগুলোকে দেওয়া উচ্ছেদ নোটিশ অবিলম্বে স্থগিতের দাবি জানিয়েছেন দেশের ১০৮ জন বিশিষ্ট নাগরিক। এক যৌথ বিবৃতিতে তাঁরা এই দাবি জানান। বিবৃতিতে বলা হয়, ১৮৫৮ সালে হাসপাতাল প্রতিষ্ঠার সময় থেকে প্রায় ১৬৮ বছর ধরে হরিজন সম্প্রদায়ের মানুষ এই কলোনিতে বসবাস করে আসছেন এবং হাসপাতালের পরিচ্ছন্নতার দায়িত্ব পালন করছেন। বর্তমানে এই কলোনিতে ৪টি মুসলিম পরিবারসহ মোট ৬০টি পরিবার রয়েছে। এসব পরিবারের ৪২ জন সন্তান বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে পড়াশোনা করছে। এখানকার বাসিন্দাদের মধ্যে ৩১ জন সরকারি স্থায়ী কর্মী, ২৮ জন অবসরপ্রাপ্ত এবং ১৯ জন আউটসোর্সিংয়ের মাধ্যমে কর্মরত আছেন। বিবৃতিতে আরও উল্লেখ করা হয়, হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ সম্প্রতি এক প্রশাসনিক নোটিশে কলোনি খালি করার চূড়ান্ত নির্দেশ দিয়েছে এবং একই সঙ্গে পানি, বিদ্যুৎ ও গ্যাস সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে ভবন ভেঙে ফেলার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। ভবনগুলোকে ঝুঁকিপূর্ণ বলা হলেও বাসিন্দাদের পুনর্বাসনের কোনো উদ্যোগ নেওয়া হয়নি। নোটিশের বিষয়ে কথা বলতে গেলে বাসিন্দাদের সঙ্গে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ দুর্ব্যবহার করেছে বলেও অভিযোগে বলা হয়েছে। নাগরিকেরা তাঁদের বিবৃতিতে বলেন, যথাযথ পুনর্বাসনের ব্যবস্থা ছাড়া এই ধরনের উচ্ছেদ কার্যক্রম সংবিধান, সুপ্রিম কোর্টের নজির এবং আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সনদের সুস্পষ্ট লঙ্ঘন। সংবিধানে নাগরিকদের আশ্রয়ের ব্যবস্থা করাকে রাষ্ট্রের দায়িত্ব বলা হয়েছে এবং দেশের সর্বোচ্চ আদালত বিকল্প ব্যবস্থা ছাড়া কাউকে জোরপূর্বক উচ্ছেদ না করার স্পষ্ট নির্দেশনা দিয়েছেন। আন্তর্জাতিক সনদেও জোরপূর্বক উচ্ছেদকে মানবাধিকারের লঙ্ঘন হিসেবে গণ্য করা হয়। এমতাবস্থায় সিটি করপোরেশন ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রতি অবিলম্বে এই উচ্ছেদ নোটিশ স্থগিত করার আহ্বান জানিয়েছেন নাগরিকেরা। তাঁরা স্পষ্টভাবে জানিয়েছেন, পরিবারগুলোর জন্য স্থায়ী ও গ্রহণযোগ্য পুনর্বাসনের ব্যবস্থা না করা পর্যন্ত কোনো ধরনের উচ্ছেদ বা ভবন ভাঙার কাজ চালানো যাবে না। একই সঙ্গে সারা দেশে হরিজন সম্প্রদায়ের সামাজিক নিরাপত্তা, কাজ এবং বাসস্থানের অধিকার নিশ্চিত করতে স্থানীয় প্রতিনিধিদের সম্পৃক্ত করে একটি দীর্ঘমেয়াদি বিশেষ উন্নয়ন পরিকল্পনা গ্রহণের তাগিদ দিয়েছেন তাঁরা। এই যৌথ বিবৃতিতে স্বাক্ষর করেছেন আনু মুহাম্মদ, সামিনা লুৎফা, মেঘনা গুহঠাকুরতা, সারা হোসেন, জ্যোতির্ময় বড়ুয়া, মুজাহিদুল ইসলাম সেলিম, খুশী কবির, শিরীন পারভিন হক, মোশাহিদা সুলতানা, মুশতাক হোসেন, রেহনুমা আহমেদ ও জামসেদ আনোয়ার তপনসহ ১০৮ জন নাগরিক।
বিকল্প পুনর্বাসন ছাড়া মিটফোর্ড হাসপাতালের হরিজন কলোনির বাসিন্দাদের উচ্ছেদ নোটিশ অবিলম্বে স্থগিতের দাবি জানিয়েছেন দেশের ১০৮ জন বিশিষ্ট নাগরিক।


0 Comments