ব্রেকিং নিউজ

ব্রেকিং নিউজ

মাতারবাড়ীতে সাগরের ভাঙনে গৃহহীন চার শতাধিক পরিবার, ঝুঁকিতে গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা

মাতারবাড়ীতে সাগরের ভাঙনে গৃহহীন চার শতাধিক পরিবার, ঝুঁকিতে গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা

কক্সবাজারের মহেশখালীর মাতারবাড়ী এলাকার জেলেপাড়া ও আশপাশের পাঁচ গ্রামে সাগরের প্রবল ভাঙন তীব্র আকার ধারণ করেছে। চলতি বর্ষা মৌসুমে সাগরের প্রবল ঢেউ এবং জোয়ারের পানির তোড়ে চার শতাধিক পরিবার গৃহহীন হয়ে পড়েছে বলে স্থানীয়রা জানিয়েছেন। ভাঙনের কারণে বসতভিটা হারানোর পাশাপাশি খাবার পানির তীব্র সংকটও দেখা দিয়েছে। সরেজমিনে সাইরার ডেইল এলাকাসহ আশপাশের বেশ কিছু এলাকায় দেখা গেছে, সাগরের কিনারে থাকা বাড়িগুলোর একাংশ ইতোমধ্যে বিলীন হয়ে গেছে। আবার অনেক ঘরের ফাটল দিয়ে জোয়ারের পানি উঠানে ঢুকে পড়ছে। গাছপালা, রাস্তাঘাট ও নলকূপ সাগরে চলে যাওয়ায় চরম দুর্ভোগে পড়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। ঘর হারিয়ে জাফর আলম মাঝি ও ফরিদুল আলমসহ অনেক পরিবার আত্মীয়ের বাড়িতে আশ্রয় নিয়েছেন। তাদেরই একজন ফরিদুল আলম ক্ষোভ প্রকাশ করে জানান, পুরো এলাকা ভেঙে গেলেও তাদের কোনো খোঁজ নেওয়া হচ্ছে না এবং নতুন জায়গায় জমি কিনে ঘর তোলার সামর্থ্যও তাদের নেই। এছাড়া গৃহবধূ আফরোজা খাতুনের বাড়ির অর্ধেক সাগরে চলে গেছে এবং অসুস্থ স্বামী ও ছেলেকে নিয়ে তিনি চরম অনিশ্চয়তায় দিন কাটাচ্ছেন। স্থানীয়দের অভিযোগ, প্রাকৃতিক কারণের পাশাপাশি গভীর সমুদ্রবন্দরের চ্যানেল খননের জন্য নিয়মিত বালু উত্তোলনের ফলে ভাঙন আরও বাড়ছে। তরুণ নুরুল ইসলাম আশঙ্কা প্রকাশ করে বলেন, গ্রামগুলো বিলীন হলে সাগরের ঢেউ সরাসরি বিদ্যুৎকেন্দ্র ও বন্দরের দিকে আঘাত হানতে পারে। বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলনের (বাপা) কক্সবাজার জেলা শাখার সাংগঠনিক সম্পাদক এইচএম নজরুল ইসলাম জানান, এই ভাঙনে মানুষের বসতবাড়ির পাশাপাশি গাছপালা, প্রাকৃতিক পরিবেশ এবং জীববৈচিত্র্য ধ্বংস হচ্ছে। মাতারবাড়ী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আবু হায়দার বলেন, বিষয়টি সংসদ সদস্যসহ ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে এবং ভাঙন না থামালে মাতারবাড়ী কয়লাভিত্তিক তাপবিদ্যুৎকেন্দ্র ও গভীর সমুদ্রবন্দরও ঝুঁকিতে পড়বে। বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ডের কক্সবাজার কার্যালয়ের নির্বাহী প্রকৌশলী নুরুল ইসলাম জানান, মাতারবাড়ী ও ধলঘাটায় মোট ৩২ কিলোমিটার বেড়িবাঁধের মধ্যে সাড়ে ছয় কিলোমিটার অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ এবং ১৮ কিলোমিটার বাঁধ সংস্কার প্রয়োজন। কয়েকটি ঝুঁকিপূর্ণ অংশে জরুরি সংস্কারের কাজ শুরু হয়েছে। তবে স্থানীয়দের দাবি, বিচ্ছিন্ন সংস্কারের বদলে দীর্ঘমেয়াদি ও টেকসই প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার পাশাপাশি পুনর্বাসনের ব্যবস্থা করা দরকার। কক্সবাজারের জেলা প্রশাসক মো. আবদুল মান্নান জানান, জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে সমুদ্রে পানির উচ্চতা বাড়ায় এই ভাঙন দেখা দিয়েছে এবং ভাঙন রোধে পানি উন্নয়ন বোর্ডের মাধ্যমে বিস্তারিত প্রকল্প প্রস্তাব বা ডিপিপি তৈরির কাজ চলছে।

সংক্ষেপে:
সাগরের প্রবল ভাঙনে মহেশখালীর মাতারবাড়ীর চার শতাধিক পরিবার গৃহহীন হয়ে পড়েছে। বিশুদ্ধ পানির সংকটের পাশাপাশি ঝুঁকিতে রয়েছে বিদ্যুৎকেন্দ্র ও বন্দর।
মাতারবাড়ীতে সাগরের ভাঙনে গৃহহীন চার শতাধিক পরিবার, ঝুঁকিতে গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা

0 Comments