সড়ক দুর্ঘটনা ও প্রাণহানি কমাতে ট্রাফিক আইনের কঠোর প্রয়োগ, নিরাপদ সড়ক নিশ্চিতকরণ এবং সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর সমন্বিত উদ্যোগ জোরদারের আহ্বানে পালিত হচ্ছে জাতীয় সড়ক নিরাপত্তা দিবস। এ বছর দিবসটির প্রতিপাদ্য নির্ধারণ করা হয়েছে নিরাপদ সড়ক, সমৃদ্ধ দেশ-সবার আগে বাংলাদেশ। দেশের উন্নয়নের অবিচ্ছেদ্য অংশ হিসেবে সড়ক নিরাপত্তার গুরুত্ব তুলে ধরতে এই প্রতিপাদ্য নেওয়া হয়েছে। প্রতি বছর সড়ক দুর্ঘটনায় হাজার হাজার মানুষের প্রাণহানি ও অসংখ্য মানুষের আহত হওয়ার প্রেক্ষাপটে দিবসটি পালন করা হচ্ছে। সড়ক দুর্ঘটনা প্রতিরোধ ও আইনি কাঠামো শক্তিশালী করতে সরকার ইতোমধ্যে সড়ক নিরাপত্তা আইন, ২০২৬-এর খসড়া প্রস্তুত করেছে। সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগ প্রণীত এই খসড়া আইনে সড়ক দুর্ঘটনায় আহত ব্যক্তিদের বিনামূল্যে জরুরি চিকিৎসা নিশ্চিত করা, দুর্ঘটনাকবলিত ব্যক্তিকে সহায়তাকারীদের আইনি সুরক্ষা দেওয়া, ট্রাফিক আইন লঙ্ঘনের জন্য ডিমেরিট পয়েন্ট ব্যবস্থা চালু এবং বারবার আইন লঙ্ঘন করলে দ্বিগুণ জরিমানার বিধান রাখার প্রস্তাব করা হয়েছে। এর মাধ্যমে ঝুঁকিপূর্ণ সড়ক ব্যবহারকারীদের সুরক্ষা এবং যানবাহন ও অবকাঠামোর নিরাপত্তা বৃদ্ধি করা সম্ভব হবে বলে আশা করা হচ্ছে। গত ১৪ অক্টোবর সড়ক পরিবহন ও সেতু, রেলপথ এবং নৌপরিবহনমন্ত্রী শেখ রবিউল আলম জানান যে সরকার ২০২৭ সালের মধ্যে একটি সমন্বিত সড়ক নিরাপত্তা আইন প্রণয়নে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। উল্লেখ্য, ২০২৫ সালের ফেব্রুয়ারিতে মরক্কোর মারাকেশে অনুষ্ঠিত সড়ক নিরাপত্তাবিষয়ক আন্তর্জাতিক মন্ত্রী পর্যায়ের সম্মেলনে বাংলাদেশ বৈশ্বিক সেফ সিস্টেম অ্যাপ্রোচের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে ২০২৭ সালের মধ্যে সমন্বিত আইন প্রণয়নের এই অঙ্গীকার করেছিল। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, বাংলাদেশে প্রতি বছর সড়ক দুর্ঘটনায় প্রায় ৩১ হাজার ৫৭৮ জনের মৃত্যু হয়। তবে বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষের তথ্য বলছে, ২০২৫ সালে সড়ক দুর্ঘটনায় ৫ হাজার ৪৯০ জনের মৃত্যু হয়েছে, যা বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার হিসাবের তুলনায় প্রায় ছয় গুণ কম।
আজ পালিত হচ্ছে জাতীয় সড়ক নিরাপত্তা দিবস। সড়ক দুর্ঘটনা কমাতে ট্রাফিক আইন কঠোর প্রয়োগ ও নতুন আইন প্রণয়নের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার।
-6ad8a6b76138e.webp)

0 Comments