রাজধানীর দয়াগঞ্জ রেলক্রসিং সংলগ্ন গুমটিঘর এলাকার একটি মাদক স্পটে যৌথ অভিযান চালিয়ে দুই নারীসহ মোট ১৫ জনকে আটক করা হয়েছে। পরে ভ্রাম্যমাণ আদালত তাদের প্রত্যেককে তিন মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড ও এক শ টাকা করে জরিমানা প্রদান করেন। মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর এবং এসআরবির যৌথ দল আজ সোমবার বিকেল সোয়া তিনটা থেকে বিকেল পাঁচটা পর্যন্ত এই অভিযান পরিচালনা করে। অভিযান চলাকালীন ঘটনাস্থল থেকে ইয়াবা, গাঁজা ও হেরোইনসহ মাদক সেবনের বিভিন্ন সরঞ্জাম জব্দ করা হয়। একই সঙ্গে মাদক সেবনের কাজে ব্যবহৃত অস্থায়ী কাগজের ছাউনি ও ঝুপড়ি ঘরগুলো বুলডোজার দিয়ে ভেঙে গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়। অভিযানকারী সংস্থার কর্মকর্তারা জানান, ওই এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে প্রকাশ্যে মাদক কেনাবেচা ও সেবন চলে আসছে। বিকেলে যৌথ বাহিনীর সদস্যরা ছদ্মবেশে অভিযান শুরু করলে অপরাধীরা পালানোর চেষ্টা করলেও হাতেনাতে ১৫ জনকে আটক করা হয়। মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের ঢাকা উত্তরের উপপরিচালক মো. আনোয়ার হোসেন গণমাধ্যমকে বলেন, ওই এলাকার মাদক ব্যবসায়ীরা ভাসমান হওয়ায় অভিযান শেষে তারা আবার ফিরে আসে, তবে সেখানে স্থায়ী নজরদারির ব্যবস্থা করা গেলে সুফল পাওয়া যাবে। আটক ব্যক্তিদের তাৎক্ষণিকভাবে সাজা প্রদান করেন ভ্রাম্যমাণ আদালতের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মির্জা মোহাম্মদ তাওশিফ শরিফ। তিনি গণমাধ্যমকে জানান, অপরাধ প্রমাণিত হওয়ায় প্রত্যেককে তিন মাসের কারাদণ্ড ও এক শ টাকা জরিমানা করা হয়েছে। উল্লেখ্য, এর আগে গত শনিবার একই মাদক স্পটে তৎকালীন মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ইশরাক হোসেন অস্ত্র উঁচিয়ে অভিযান চালিয়েছিলেন, যার ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর দেশজুড়ে তীব্র সমালোচনার সৃষ্টি হয়। এই ঘটনার জেরে গতকাল প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান তাঁকে পদত্যাগের নির্দেশ দেন এবং আজ দুপুরে তিনি সংবাদ সম্মেলন করে পদত্যাগের ঘোষণা দেন।
রাজধানীর দয়াগঞ্জে যৌথ অভিযানে ১৫ মাদকসেবী আটক এবং ভ্রাম্যমাণ আদালতে কারাদণ্ড। সম্প্রতি এই এলাকায় সাবেক প্রতিমন্ত্রীর অস্ত্র উঁচিয়ে অভিযানের ভিডিও নিয়ে ব্যাপক আলোচনা তৈরি হয়েছিল।


0 Comments