ঢাকার মেট্রোরেলে যাত্রীসংখ্যা আশানুরূপভাবে বাড়ছে এবং চালুর পর থেকে এ পর্যন্ত মোট ৩১ কোটি ৩৫ লাখ ৪৬ হাজার ৩০৬ জন যাত্রী এই বাহনে যাতায়াত করেছেন। ঢাকা ম্যাস ট্রানজিট কোম্পানি লিমিটেড (ডিএমটিসিএল) সূত্রে জানা গেছে, চলতি বছরের ১০ সেপ্টেম্বর এক দিনে সর্বোচ্চ ৪ লাখ ৯৯ হাজার ৭৫৬ জন যাত্রী মেট্রোরেলে ভ্রমণ করেছেন। ২০২২ সালের ২৮ ডিসেম্বর উত্তরা থেকে আগারগাঁও অংশ চালুর মধ্য দিয়ে শুরু হওয়া এই যাত্রায় বর্তমানে উত্তরা থেকে মতিঝিল পুরো পথে ট্রেন চলাচল করছে। সময় বাঁচানো এবং যানজটমুক্ত যাতায়াতের কারণে উত্তরা, মিরপুর, ফার্মগেট, শাহবাগ ও মতিঝিলের মানুষের কাছে মেট্রোরেল অত্যন্ত জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে। ডিএমটিসিএলের তথ্য অনুযায়ী, মতিঝিল স্টেশনটি এখন পর্যন্ত সবচেয়ে বেশি যাত্রী ওঠানামার কেন্দ্র, যেখানে প্রতিদিন গড়ে ৫১ হাজার ৫৪২ জন যাত্রী প্রবেশ করেন এবং ৫১ হাজার ৩৬ জন বের হন। এছাড়া উত্তরা উত্তর, পল্লবী, মিরপুর-১০, কারওয়ান বাজার ও সচিবালয় স্টেশনগুলোতেও প্রচুর যাত্রী যাতায়াত করেন। যাত্রী বাড়ার ফলে টিকিট বিক্রি থেকেও আয় ক্রমাগত বৃদ্ধি পেয়েছে। গত ২০২৪-২৫ অর্থবছরে অনিরীক্ষিত আয় ছিল প্রায় ৪০০ কোটি টাকা। তবে বিপুল এই অবকাঠামো নির্মাণে বৈদেশিক ঋণ বিশেষ করে জাইকার কাছ থেকে ১৯ হাজার ৭১৮ কোটি টাকা নেওয়া হয়েছে, যার কিস্তি পরিশোধের চাপ আগামীতে বাড়বে। ২০২৩ সালের জুন থেকে সীমিত আকারে ঋণ পরিশোধ শুরু হয়েছে এবং ২০৩০-৩১ সাল পর্যন্ত পাঁচ বছরে ৩ হাজার ৭০০ কোটি টাকার বেশি কিস্তি পরিশোধ করতে হবে। একই সঙ্গে পুরোনো হওয়ার কারণে রক্ষণাবেক্ষণ ও পরিচালনা ব্যয়ও বৃদ্ধি পাচ্ছে। এই পরিস্থিতি মোকাবিলায় ট্রেনের সংখ্যা ও চলাচলের সময় বাড়িয়ে যাত্রী পরিবহন বাড়ানোর পাশাপাশি টিকিটের বাইরে অন্যান্য উৎস থেকে আয় বাড়ানোর উদ্যোগ নিয়েছে ডিএমটিসিএল। ডিএমটিসিএলের পরিচালক (পরিচালন ও রক্ষণাবেক্ষণ) মো. নজরুল ইসলাম জানিয়েছেন, পর্যাপ্ত লোকবল পাওয়ায় এখন পর্যায়ক্রমে রাতের বেলা মেট্রোরেলের চলাচল বাড়ানো হবে এবং দুই ট্রেনের মাঝখানের বিরতির সময়ও কমানো হবে। কমলাপুর পর্যন্ত সম্প্রসারণের কাজ চলমান থাকায় ভবিষ্যতে যাত্রীসংখ্যা আরও বৃদ্ধি পাবে বলে আশা করা হচ্ছে। বুয়েটের পুরকৌশল বিভাগের অধ্যাপক সামছুল হক মনে করেন, সক্ষমতার পুরোটা ব্যবহার করে রাতে ও বন্ধের দিনে মেট্রোর চলাচল বাড়ানোর পাশাপাশি অযৌক্তিক খরচ কমানোর দিকে নজর দিতে হবে।
চালুর পর থেকে মেট্রোরেলে ৩১ কোটি ৩৫ লাখের বেশি যাত্রী যাতায়াত করেছেন। চলতি বছরের ১০ সেপ্টেম্বর এক দিনে সর্বোচ্চ প্রায় ৫ লাখ যাত্রী ভ্রমণ করেছেন। যাত্রী বাড়ার পাশাপাশি বাড়ছে আয় ও ঋণের কিস্তি পরিশোধের চাপ।


0 Comments