টাঙ্গাইলের নাগরপুরে গভীর রাতে বাড়িতে চুরির ঘটনা ঠেকাতে গিয়ে ছামিনুর মিয়া (২৫) নামের এক চোরের ধারালো ছুরিকাঘাতে মজনু মিয়া (৫০) নামের এক গৃহস্থ নিহত হয়েছেন। বুধবার ভোরে উপজেলার বারাপুষা গ্রামে এই ঘটনা ঘটে। নিহত মজনু মিয়া ওই গ্রামের মৃত বেল্লাল মিয়ার ছেলে এবং পেশায় একজন ঢালাই মিস্ত্রির সহকারী ছিলেন। এই ঘটনায় অভিযুক্ত ছামিনুর মিয়াকে স্থানীয় জনতা আটক করে পুলিশে সোপর্দ করেছে। আটক ছামিনুর পার্শ্ববর্তী গয়হাটা গ্রামের মুন্নাফ মিয়ার ছেলে। স্থানীয় বাসিন্দা ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, বুধবার ভোররাত সাড়ে চারটার দিকে ছামিনুর মিয়া চুরির উদ্দেশ্যে মজনু মিয়ার বাড়িতে প্রবেশ করেন। এ সময় গৃহকর্তার ছোট মেয়ে জুলেখা ঘর থেকে বের হয়ে চোরের উপস্থিতি টের পেয়ে চিৎকার শুরু করেন। মেয়ের চিৎকারে ছামিনুর বাড়ির খড়ের গাদার পেছনে লুকিয়ে পড়েন। পরে মজনু মিয়া তাকে সেখান থেকে ধরতে গেলে ছামিনুর তার সঙ্গে থাকা ধারালো ছুরি দিয়ে মজনু মিয়ার ঘাড় ও গলায় উপর্যুপরি আঘাত করেন। মজনুর চিৎকার শুনে প্রতিবেশী আলতাফ ও নাজমুল তাকে বাঁচাতে এগিয়ে এলে চোর তাদের ওপরও হামলা চালিয়ে আহত করেন। স্থানীয়রা আহতদের উদ্ধার করে নাগরপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মজনু মিয়াকে মৃত ঘোষণা করেন। উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের ভারপ্রাপ্ত আবাসিক মেডিকেল অফিসার ডা. মীর রকিবুল ইসলাম লীন জানান, ধারালো অস্ত্রের আঘাতে মজনু মিয়ার গলার প্রধান রক্তনালী কেটে অতিরিক্ত রক্তক্ষরণে হাসপাতালে পৌঁছানোর আগেই মৃত্যু হয়। অপর দুই আহতকে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে। নাগরপুর থানার অফিসার ইনচার্জ মো. জহুরুল ইসলাম জানান, পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে এবং নিহতের মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য টাঙ্গাইল জেনারেল হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে। স্থানীয়দের হাতে আটক অভিযুক্ত ছামিনুরকে পুলিশ হেফাজতে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে এবং এ ঘটনায় হত্যা মামলার প্রস্তুতি চলছে।
টাঙ্গাইলের নাগরপুরে বাড়িতে চুরি ঠেকাতে গিয়ে চোরের ছুরিকাঘাতে মজনু মিয়া নামের এক গৃহস্থ নিহত হয়েছেন। এ সময় স্থানীয়রা ঘাতক ছামিনুর মিয়াকে আটক করে পুলিশে সোপর্দ করেছে।


0 Comments