পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রে ইউরেনিয়াম-২৩৫ পরমাণুর নিউক্লিয়াস বিভাজনের মাধ্যমে চেইন রিঅ্যাকশন বা শৃঙ্খল বিক্রিয়া ঘটে। যখন একটি নিউট্রন ইউরেনিয়াম-২৩৫ পরমাণুকে আঘাত করে ভেঙে দেয়, তখন দুই থেকে তিনটি নতুন নিউট্রন বেরিয়ে আসে। এই নিউট্রনগুলো আরও পরমাণুকে ভেঙে দেয় এবং প্রক্রিয়াটি দ্রুত গতিতে চলতে থাকে। সঠিক নিয়ন্ত্রণ না থাকলে চুল্লি অতিরিক্ত গরম হয়ে গলে যাওয়ার ঝুঁকি তৈরি হয়। এই ঝুঁকি এড়াতে পারমাণবিক চুল্লিতে চেইন রিঅ্যাকশন নিয়ন্ত্রণের মধ্যে রাখা হয়। চুল্লির কার্যক্রম মন্থর করতে এবং অতিরিক্ত মুক্ত নিউট্রন শোষণ করতে বোরন-১০ এবং ক্যাডমিয়াম ধাতু ব্যবহার করা হয়। বোরন-১০ পরমাণু পাশ দিয়ে যাওয়া নিউট্রনকে নিজের নিউক্লিয়াসের সঙ্গে যুক্ত করে আটকে ফেলে। অন্যদিকে বোরন-১১ নিউট্রনকে দূরে ঠেলে দেয় এবং ইস্পাতে বোরন-১১ যুক্ত করে চুল্লির জন্য প্রতিরক্ষা দেয়াল তৈরি করা হয়, যা নিউট্রনকে বাইরে আসতে বাধা দেয়। এই নির্দিষ্ট পদার্থগুলো দিয়ে তৈরি নিয়ন্ত্রণকারী রড চুল্লিতে স্থাপন করা হয়। রডগুলো চুল্লির ভেতরে পুরোপুরি থাকলে কোনো চেইন রিঅ্যাকশন ঘটে না। রডগুলোকে কিছুটা বা বেশি বের করে আনলে নিউট্রন শোষণের পরিমাণ কমে যায়, চুল্লির কার্যক্রম গতিশীল হয় এবং ইউরেনিয়াম উত্তপ্ত হতে শুরু করে। আবার রডগুলো পুনরায় প্রবেশ করালে বিভাজন প্রক্রিয়া মন্থর হয়ে আসে। এই পুরো প্রক্রিয়াটি পরিচালনার ক্ষেত্রে রুশ রাষ্ট্রীয় পরমাণু শক্তি কর্পোরেশন রোসাটম, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়, বাংলাদেশ পরমাণু শক্তি কমিশন, এনআইএইপি ও এএসই রাশিয়া এবং পরমাণু শক্তি তথ্য কেন্দ্র ঢাকার সংশ্লিষ্টতা রয়েছে।
পারমাণবিক চুল্লিতে কীভাবে চেইন রিঅ্যাকশন নিয়ন্ত্রণ করা হয় এবং বোরন-১০ ও ক্যাডমিয়ামের ভূমিকা কী, তা জানা গেছে।


0 Comments