ব্রেকিং নিউজ

ব্রেকিং নিউজ

আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের গ্রেপ্তার ও জামিন প্রক্রিয়ায় আইনি দুর্বলতা নিয়ে বাড়ছে উদ্বেগ

আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের গ্রেপ্তার ও জামিন প্রক্রিয়ায় আইনি দুর্বলতা নিয়ে বাড়ছে উদ্বেগ

বাংলাদেশের আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের (আইসিটি) বিচারিক প্রক্রিয়ায় গ্রেপ্তার, দীর্ঘমেয়াদি আটক এবং জামিনসংক্রান্ত আইনি দুর্বলতা নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। সংস্কারের উদ্যোগ নেওয়া হলেও ট্রাইব্যুনাল এখনো আগের সরকারের আমলের ত্রুটিপূর্ণ আইন ব্যবহার করছে বলে অভিযোগ উঠেছে। বিশেষ করে গ্রেপ্তার বা জামিনের সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে উচ্চ আদালতে আপিল করার সুযোগ না থাকাকে আন্তর্জাতিক মানদণ্ডের পরিপন্থী হিসেবে দেখা হচ্ছে।

বর্তমানে ট্রাইব্যুনাল ২০০৯ থেকে ২০২৪ সাল পর্যন্ত আওয়ামী লীগ সরকারের আমলের মানবতাবিরোধী অপরাধের বিচার করছে। যদিও বিচারকেরা দাবি করেছেন যে এই আইন আন্তর্জাতিক মানদণ্ড পূরণ করে, তবে বাস্তবে কিছু ক্ষেত্রে প্রক্রিয়াগত জটিলতা দেখা গেছে। আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতের (আইসিসি) রোম সংবিধিতে গ্রেপ্তারের জন্য সুনির্দিষ্ট প্রমাণের কথা থাকলেও বাংলাদেশের আইসিটির রুল ৯(১) অনুযায়ী তদন্ত কর্মকর্তার সন্তুষ্টির ভিত্তিতেই পরোয়ানা জারি হতে পারে।

দীর্ঘ সময় ধরে অভিযোগ গঠন ছাড়াই অনেককে আটক রাখার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। সাবেক বেসামরিক বিমান চলাচলমন্ত্রী ফারুক খান এবং সাবেক জ্বালানি উপদেষ্টা ড. তওফিক-ই-ইলাহী চৌধুরীকে দীর্ঘ সময় ধরে কোনো সুনির্দিষ্ট অভিযোগ ছাড়াই আটক রাখা হয়েছে। এছাড়া সাংবাদিক মোজাম্মেল বাবু ও ফারজানা রূপার ক্ষেত্রেও গ্রেপ্তারের কারণ জানাতে বিলম্বের অভিযোগ রয়েছে।

আইসিটির কার্যবিধিতে জামিন দেওয়ার ক্ষেত্রেও কোনো স্পষ্ট মানদণ্ড নেই। এমনকি এক বছরের বেশি সময় আটক থাকলে মুক্তির বিধান থাকলেও বাস্তবে এর প্রয়োগ দেখা যাচ্ছে না। সবচেয়ে বড় সীমাবদ্ধতা হিসেবে দেখা হচ্ছে আপিলের অধিকারকে। ১৯৭৩ সালের আইন অনুযায়ী, চূড়ান্ত রায় ছাড়া অন্য কোনো অন্তর্বর্তীকালীন আদেশের বিরুদ্ধে উচ্চ আদালতে যাওয়ার সুযোগ নেই।

ব্যারিস্টার খান খালিদ আদনান এ প্রসঙ্গে জানান, গ্রেপ্তার হওয়া উচিত স্পষ্ট বিচারিক মানদণ্ড ও প্রমাণের ভিত্তিতে। তিনি আরও বলেন, কাউকে আটক করলে দ্রুত তাঁকে কারণ জানাতে হবে। বিচারপ্রক্রিয়ার গ্রহণযোগ্যতা বজায় রাখতে স্বচ্ছতা ও ন্যায্য প্রক্রিয়া নিশ্চিত করা জরুরি।

সংক্ষেপে:
আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের গ্রেপ্তার, দীর্ঘকালীন আটক ও জামিন না দেওয়ার প্রক্রিয়া নিয়ে আইনি প্রশ্ন উঠেছে। উচ্চ আদালতে আপিলের সুযোগ না থাকাকে আন্তর্জাতিক মানদণ্ডের পরিপন্থী বলছেন বিশেষজ্ঞরা।
আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের গ্রেপ্তার ও জামিন প্রক্রিয়ায় আইনি দুর্বলতা নিয়ে বাড়ছে উদ্বেগ

0 Comments