ব্রেকিং নিউজ

ব্রেকিং নিউজ

বিয়ে ও চাকরির প্রলোভনে বিদেশে নারী পাচার বৃদ্ধি: গ্রেপ্তার ৬ চীনা নাগরিকসহ সক্রিয় আন্তর্জাতিক চক্র

বিয়ে ও চাকরির প্রলোভনে বিদেশে নারী পাচার বৃদ্ধি: গ্রেপ্তার ৬ চীনা নাগরিকসহ সক্রিয় আন্তর্জাতিক চক্র

বাংলাদেশে বিয়ে ও চাকরির প্রলোভন দেখিয়ে নারী পাচারের ঘটনা আশঙ্কাজনকভাবে বাড়ছে। বিশেষ করে চীনা নাগরিকদের সঙ্গে বৈবাহিক সম্পর্ক তৈরি করে নারীদের বিদেশে পাচারের চেষ্টার অভিযোগে গত কয়েক মাসে ৬ জন চীনা নাগরিককে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এছাড়া ভালো চাকরি ও উন্নত জীবনের প্রলোভনে কম্বোডিয়া ও সৌদি আরবসহ বিভিন্ন দেশেও নারী পাচারের ঘটনা সামনে এসেছে। অভিবাসন সংশ্লিষ্টদের মতে, স্থানীয় দালালদের সহায়তায় আন্তর্জাতিক মানবপাচারকারী চক্র এসব কর্মকাণ্ড পরিচালনা করছে।

তদন্ত সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, ২০২৪ সালের ৭ নভেম্বর হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে ফ্যান গোউয়ে ও ইয়াং জিকু নামে দুই চীনা নাগরিককে গ্রেপ্তার করা হয়। তাদের বিরুদ্ধে রানী আক্তার ও মালিনা মারাক নামে দুই নারীকে বিয়ের ফাঁদে ফেলে চীনে নেওয়ার চেষ্টার অভিযোগ রয়েছে। পরবর্তীতে ২০২৫ সালের ২৮ মে একই ধরনের অভিযোগে হু জানজুন ও জিয়াং লিজি নামে আরও দুই চীনা নাগরিককে গ্রেপ্তার করা হয়। পাচারকারীরা সাধারণত সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে গ্রামের নারীদের সঙ্গে যোগাযোগ করে এবং বাংলাদেশে এসে পরিবারের আস্থা অর্জন করে বিয়ের মাধ্যমে তাদের বিদেশে নিয়ে যায়। অভিযোগ রয়েছে, বিদেশে নেওয়ার পর এসব নারীকে বিভিন্ন ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের কাছে বিক্রি করে দেওয়া হয়।

অন্যদিকে, চাকরির প্রলোভনে পাচারের শিকার হয়ে সম্প্রতি কম্বোডিয়া থেকে ফিরে এক নারী বিমানবন্দর থানায় মামলা করেছেন। তার অভিযোগ অনুযায়ী, মাসে এক লাখ টাকা বেতনের প্রতিশ্রুতি দিয়ে রাজবাড়ীর মো. রুবেল, ফরিদপুরের আনিসুর রহমান ও গাজীপুরের বেলাল হোসেন তাকে কম্বোডিয়ায় পাঠান। সেখানে পৌঁছানোর পর তার পাসপোর্ট কেড়ে নিয়ে একটি চীনা প্রতিষ্ঠানের কাছে বিক্রি করে দেওয়া হয় এবং তাকে অনৈতিক কাজে বাধ্য করার চেষ্টা করা হয়। পরবর্তীতে ব্র্যাক মাইগ্রেশন ওয়েলফেয়ার সেন্টারের সহায়তায় তিনি দেশে ফেরেন। সৌদি আরবেও চাকরির প্রলোভনে গিয়ে এক নারী শারীরিক ও যৌন নির্যাতনের শিকার হয়েছেন বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।

ব্র্যাকের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, গত সাত বছরে নির্যাতন, শোষণ ও প্রতারণার শিকার হয়ে প্রায় ৭০ হাজার নারী কর্মী বিদেশ থেকে দেশে ফিরেছেন। একই সময়ে অন্তত ৮০০ নারী কর্মীর মরদেহ দেশে এসেছে। অভিবাসন বিশেষজ্ঞ শরিফুল হাসান জানান, বিদেশি নাগরিকদের পরিচয় ও উদ্দেশ্য যাচাই করা অত্যন্ত জরুরি। পাচার রোধে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী, দূতাবাস ও অভিবাসন সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোর সমন্বিত উদ্যোগের পাশাপাশি নারীদের সচেতন করার ওপর তিনি গুরুত্বারোপ করেন।

সংক্ষেপে:
বিয়ে ও চাকরির প্রলোভনে বাংলাদেশি নারীদের বিদেশে পাচারের ঘটনা বাড়ছে। সম্প্রতি ৬ চীনা নাগরিক গ্রেপ্তার হয়েছেন। গত ৭ বছরে ৭০ হাজার নারী নির্যাতনের শিকার হয়ে দেশে ফিরেছেন। পাচার রোধে সচেতনতা জরুরি।
বিয়ে ও চাকরির প্রলোভনে বিদেশে নারী পাচার বৃদ্ধি: গ্রেপ্তার ৬ চীনা নাগরিকসহ সক্রিয় আন্তর্জাতিক চক্র

0 Comments