সাতক্ষীরার শ্যামনগরে জাইকার অর্থায়নে পরিচালিত বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধ নির্মাণ প্রকল্পে চাঁদাবাজি ও হামলার অভিযোগে করা মামলায় বুড়িগোয়ালিনী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান হাজী মো. নজরুল ইসলাম এবং তার সহযোগী বিশ্বজিৎ মণ্ডলকে কারাগারে পাঠিয়েছেন আদালত। সোমবার সকালে সাতক্ষীরার চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মো. সাইদুর রহমানের আদালতে হাজির হয়ে আসামিরা জামিন আবেদন করলে বিচারক তা নামঞ্জুর করে তাদের কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।
হাজী মো. নজরুল ইসলাম শ্যামনগর উপজেলা জামায়াতের কর্মপরিষদ ও শুরা সদস্য। এর আগে উচ্চ আদালত থেকে প্রাপ্ত ছয় সপ্তাহের জামিনের মেয়াদ শেষ হওয়ায় তারা নিম্ন আদালতে আত্মসমর্পণ করেন। মামলার বাদীপক্ষে শুনানি করেন অতিরিক্ত পাবলিক প্রসিকিউটর সিরাজুল ইসলাম, আইনজীবী শেখ আবদুল খালেক ও নির্মল জোয়াদ্দার। তারা আদালতে যুক্তি দেখান যে, আসামিরা মুক্ত থাকলে সরকারি প্রকল্পের কাজ বাধাগ্রস্ত হতে পারে। অন্যদিকে আসামিপক্ষে শুনানি করেন আইনজীবী আবু বক্কর ও সৈয়দ ইফতেখার আলী।
উল্লেখ্য, গত ২৫ মে আর-রাদ করপোরেশনের আইন কর্মকর্তা মো. জাল উদ্দিন শ্যামনগর থানায় এই মামলাটি দায়ের করেন। এজাহারে অভিযোগ করা হয়েছে, শ্যামনগরের পূর্ব দুর্গাবাটি এলাকায় বাঁধ নির্মাণের কাজ চলাকালে গত বছরের আগস্ট থেকে প্রকল্পের কাছে চাঁদা দাবি করা হচ্ছিল এবং চাঁদা না দেওয়ায় কাজ বন্ধ হয়ে যায়। গত ১৯ মে ১৫ লাখ টাকা চাঁদা দাবি এবং ২৩ মে প্রকৌশলী জাহিদ হাসান ও কর্মচারী ফেরদৌসকে মারধরের অভিযোগ আনা হয় নজরুল ইসলাম ও তার সহযোগীদের বিরুদ্ধে। তবে নজরুল ইসলাম শুরু থেকেই এসব অভিযোগ অস্বীকার করে আসছেন। তার দাবি, রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে তাকে এই মামলায় জড়ানো হয়েছে এবং ঘটনার সময় তিনি ইউনিয়ন পরিষদের বাজেট অধিবেশনে উপস্থিত ছিলেন।
সাতক্ষীরার শ্যামনগরে জাইকার বাঁধ নির্মাণ প্রকল্পে চাঁদাবাজি ও হামলার অভিযোগে করা মামলায় বুড়িগোয়ালিনী ইউপি চেয়ারম্যান হাজী মো. নজরুল ইসলাম ও তার সহযোগীকে কারাগারে পাঠিয়েছেন আদালত।


0 Comments