ভারতের দিল্লিতে অবস্থান করে শেখ হাসিনা যদি বাংলাদেশের রাজনীতি নিয়ে কোনো ধরনের বক্তব্য বা তৎপরতা অব্যাহত রাখেন, তবে এর দায়ভার ভারত এড়াতে পারে না বলে মন্তব্য করেছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমেদ। শনিবার ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাদা দল ও ইউট্যাব আয়োজিত 'জুলাই অভ্যুত্থানে বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষকদের ভূমিকা' শীর্ষক এক আলোচনা সভায় তিনি এ কথা বলেন। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জোর দিয়ে বলেন, বাংলাদেশ ভারতের সঙ্গে সুসম্পর্ক বজায় রাখতে আগ্রহী, তবে সেই সম্পর্ক হতে হবে পারস্পরিক শ্রদ্ধা, মর্যাদা ও সার্বভৌম সমতার ভিত্তিতে। তিনি উল্লেখ করেন, শেখ হাসিনাকে রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড পরিচালনার সুযোগ দেওয়া এবং একই সঙ্গে বাংলাদেশের সঙ্গে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক বজায় রাখা—এই দুটি বিষয় একসঙ্গে চলতে পারে না।
সালাহউদ্দিন আহমেদ প্রশ্ন তোলেন, মানবতাবিরোধী অপরাধে অভিযুক্ত কোনো ব্যক্তিকে কীভাবে ভারত রাজনৈতিক ও গণতান্ত্রিক সংস্কৃতির নেতা হিসেবে বিবেচনা করতে পারে। তিনি অভিযোগ করেন, শেখ হাসিনা দিল্লিতে বসে বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক পরিবেশের বিরুদ্ধে এবং দেশে অস্থিরতা সৃষ্টির লক্ষ্যে বক্তব্য দিয়ে যাচ্ছেন। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আরও বলেন, ভারত যদি 'হাসিনা কার্ড' ব্যবহার করে আবার বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্কও প্রত্যাশা করে, তবে তা হবে একটি পরস্পরবিরোধী অবস্থান। ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের প্রতি আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, বাংলাদেশের বৈধ সরকারের বিরুদ্ধে শেখ হাসিনার অবস্থানকে ভারত সমর্থন করে না—এমন স্পষ্ট ঘোষণা দিলে বাংলাদেশ তাকে স্বাগত জানাবে। এছাড়া বিএনপির দীর্ঘ গণতান্ত্রিক আন্দোলনের প্রসঙ্গ টেনে তিনি শেখ হাসিনার বর্তমান ভূমিকার সমালোচনা করেন এবং তাকে আশ্রয় দেওয়ার বিষয়টিকে দুই দেশের সম্পর্কের 'পারস্পরিক প্রতিদান' হিসেবে অভিহিত করেন।
ভারতে অবস্থান করে শেখ হাসিনার রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড চালানোর বিষয়ে কড়া আপত্তি জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমেদ। তিনি বলেন, এই তৎপরতার দায় ভারত এড়াতে পারে না এবং দুই দেশের সম্পর্ক হতে হবে মর্যাদাপূর্ণ।


0 Comments