চট্টগ্রামের কর্ণফুলী উপজেলায় এস আলম গ্রুপের মালিকানাধীন সব শিল্পকারখানা আনুষ্ঠানিকভাবে বন্ধ ঘোষণা করেছে কর্তৃপক্ষ। দীর্ঘদিনের উৎপাদন সংকট, আর্থিক অচলাবস্থা এবং কাঁচামাল আমদানিতে স্থবিরতার কারণে এই চরম সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এর ফলে গত দুই বছরে গ্রুপটির বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান থেকে ধাপে ধাপে ১৩ হাজারের বেশি শ্রমিক-কর্মচারী তাদের কর্মসংস্থান হারিয়েছেন।
গত বৃহস্পতিবার কারখানাগুলোর নোটিশ বোর্ডে অব্যাহতিপ্রাপ্ত শ্রমিক-কর্মচারীদের তালিকা প্রকাশ করা হয়, যা ১ আগস্ট থেকে কার্যকর হয়েছে। বন্ধ হওয়া প্রতিষ্ঠানগুলোর তালিকায় রয়েছে এস আলম স্টিলস, এস আলম কোল্ড রোলড স্টিলস, গ্যালকো স্টিলস, চেমন ইস্পাত, এস আলম সিমেন্ট, এস আলম ভেজিটেবল অয়েল, এস আলম সুপার এডিবল অয়েল, এস আলম রিফাইনড সুগার ইন্ডাস্ট্রিজ, ইনফিনিটি সিআর স্ট্রিপস এবং এস আলম ব্যাগ ম্যানুফ্যাকচারিং মিলস। বর্তমানে এসব কারখানায় সব ধরনের উৎপাদন কার্যক্রম সম্পূর্ণ বন্ধ রয়েছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর থেকে এস আলম গ্রুপ কোনো লেটার অব ক্রেডিট (এলসি) খুলতে পারেনি এবং ব্যাংক থেকেও প্রয়োজনীয় আর্থিক সহায়তা মেলেনি। ফলে বিদেশ থেকে কাঁচামাল আমদানি বন্ধ হয়ে যাওয়ায় কারখানাগুলো অচল হয়ে পড়ে। এস আলম রিফাইনড সুগার ইন্ডাস্ট্রিজের কর্মচারী ফজলুল কবির জানান, গ্রুপের চেয়ারম্যান সাইফুল আলম মাসুদ ভবিষ্যতে কারখানা পুনরায় চালু করতে পারলে শ্রমিকদের ফিরিয়ে নেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন।
এদিকে, দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) এস আলম গ্রুপের চেয়ারম্যান সাইফুল আলম মাসুদ ও তাঁর সহযোগীদের বিরুদ্ধে ব্যাংক খাত থেকে প্রায় দুই লাখ কোটি টাকা আত্মসাৎ ও বিদেশে পাচারের অভিযোগে তদন্ত করছে। বর্তমানে সাইফুল আলম মাসুদ ও তাঁর পরিবারের সদস্যরা দেশের বাইরে অবস্থান করছেন বলে জানা গেছে। কারখানা কর্তৃপক্ষ দাবি করেছে, চাকরি হারানো শ্রমিকদের আইন অনুযায়ী পাওনা ও গ্র্যাচুইটি পর্যায়ক্রমে পরিশোধ করা হচ্ছে। বর্তমানে কারখানাগুলোর স্থাপনা রক্ষণাবেক্ষণের জন্য শুধুমাত্র নিরাপত্তা বিভাগের কিছু কর্মী নিয়োজিত আছেন।
চট্টগ্রামের কর্ণফুলীতে এস আলম গ্রুপের সব শিল্পকারখানা বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। গত দুই বছরে চাকরি হারিয়েছেন ১৩ হাজারের বেশি শ্রমিক। কাঁচামাল সংকট ও আর্থিক অচলাবস্থায় এই সিদ্ধান্ত নিয়েছে কর্তৃপক্ষ।
-6a6d808f162ae.webp)

0 Comments