সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গুজব এবং মরক্কোর অভ্যন্তরীণ তীব্র অর্থনৈতিক সংকটের কারণে স্পেনের ছিটমহল সিউটায় এক ভয়াবহ অভিবাসী সংকটের সৃষ্টি হয়েছে। গত এক সপ্তাহে প্রায় ৬০ হাজার মানুষ মরক্কো থেকে সমুদ্র ও স্থলপথে সিউটায় প্রবেশের চেষ্টা চালিয়েছেন, যা সাম্প্রতিক সময়ের সব রেকর্ড ভেঙে দিয়েছে।
গত জুলাইয়ের শুরুতে স্পেনের সুপ্রিম কোর্ট একটি রায় প্রদান করেন, যেখানে বলা হয় সীমান্ত থেকে অভিবাসীদের সরাসরি ফেরত পাঠানো যাবে না। এই আইনি বিষয়টি ইনস্টাগ্রাম ও টিকটকের মতো প্ল্যাটফর্মে ভুলভাবে প্রচার করা হয় যে, সিউটায় পৌঁছাতে পারলেই বসবাসের অনুমতি মিলবে। ১৬ বছর বয়সী তরুণ আইয়ুব আল আবায়াদ জানান, অনলাইনে এমন ভিডিও দেখেই তিনি সীমান্ত পাড়ি দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেন। তার মতো হাজারো তরুণ বিশ্বাস করেছিলেন যে, স্পেনের মাটিতে পা রাখতে পারলেই তাদের জীবন বদলে যাবে।
মরক্কোর তরুণ প্রজন্মের মধ্যে বিরাজমান হতাশা এই সংকটের অন্যতম প্রধান কারণ। সরকারি তথ্য অনুযায়ী, দেশটির ১৫ থেকে ২৪ বছর বয়সী তরুণদের প্রায় এক-চতুর্থাংশই কোনো কাজ বা শিক্ষার সঙ্গে যুক্ত নন। দুনিয়া খেররাদি নামের এক নারী ওয়েট্রেস জানান, পরিবারের সচ্ছলতার আশায় এবং একটি ভালো ভবিষ্যতের সন্ধানে তিনি এই ঝুঁকি নিয়েছেন।
এদিকে বিশ্লেষকরা মনে করছেন, রাজনৈতিক কারণে মরক্কো কর্তৃপক্ষ হয়তো সীমান্ত নিরাপত্তা শিথিল করেছে। স্পেনের প্রধানমন্ত্রী পেদ্রো সানচেজ এই গণ-অনুপ্রবেশকে সার্বভৌমত্বের লঙ্ঘন হিসেবে অভিহিত করেছেন। স্পেন সরকার ঘোষণা করেছে, অবৈধভাবে প্রবেশকারীদের দ্রুত নিজ দেশে ফেরত পাঠানো হবে এবং সমুদ্রসীমা চিহ্নিত করতে বিশেষ ধরনের বয়া স্থাপন করা হবে। বর্তমানে এই সংকট ইউরোপের অভিবাসন নীতি নিয়ে নতুন করে বিতর্কের জন্ম দিয়েছে।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের গুজব ও অর্থনৈতিক সংকটের জেরে মরক্কো থেকে স্পেনে প্রবেশের চেষ্টায় সিউটায় নজিরবিহীন অভিবাসী সংকট তৈরি হয়েছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে কড়া বার্তা দিয়েছেন স্পেনের প্রধানমন্ত্রী।


0 Comments