ইসলামি শরিয়ত অনুযায়ী প্রত্যেক মুসলমানের জন্য কমপক্ষে নির্দিষ্ট পরিমাণ ধর্মীয় জ্ঞান অর্জন করা আবশ্যক। এই পরিমাণ জ্ঞান না থাকলে ধর্মের মৌলিক বিষয়গুলো পালন করা অসম্ভব হয়ে পড়ে। ইসলামি পরিভাষায় ধর্মীয় জ্ঞানকে দুই ভাগে ভাগ করা হয়েছে, যার একটি হলো ফরজে আইন এবং অন্যটি কিফায়াহ বা সমষ্টিগত ফরজ। ফরজে আইন হলো সেই জ্ঞান যা শেখা প্রত্যেক মুসলমানের জন্য ব্যক্তিগতভাবে বাধ্যতামূলক। আল্লামা ইবনুল কাইয়িম (রহ.)-এর ব্যাখ্যা অনুযায়ী, ফরজে আইন মূলত চার প্রকার। প্রথমত, ইমানের মৌলিক পাঁচটি বিষয় তথা আল্লাহ, ফেরেশতা, কিতাব, রাসুল ও পরকালের প্রতি বিশ্বাসের সঠিক জ্ঞান। দ্বিতীয়ত, নামাজ, রোজা, হজ, জাকাত এবং ওজুসহ প্রাত্যহিক ইবাদতের নিয়ম ও শর্তাবলি সম্পর্কে জানা। তৃতীয়ত, শরিয়তে নিষিদ্ধ বা হারাম বিষয়গুলো চিহ্নিত করা, যা সব যুগে এবং সব নবীর শরিয়তেই নিষিদ্ধ ছিল। চতুর্থত, সামাজিক মেলামেশা ও লেনদেনের বিধান জানা, যা ব্যক্তির সামাজিক অবস্থান ও পেশার ওপর নির্ভর করে। টঙ্গীর বাইতুল আকরাম মসজিদ ও মাদ্রাসা কমপ্লেক্সের শিক্ষক মাহমুদ হাসান ফাহিম জানান, এই আবশ্যকীয় জ্ঞানের মূল ভিত্তি তিনটি—বিশ্বাসগত জ্ঞান, কর্মগত জ্ঞান এবং বর্জনগত জ্ঞান। ব্যক্তির অবস্থাভেদে এই জ্ঞানের প্রয়োজনীয়তা ভিন্ন হতে পারে, যেমন একজন ব্যবসায়ীর জন্য কেনাবেচার বিধান জানা যতটুকু জরুরি, সাধারণ মানুষের জন্য তা ততটা নাও হতে পারে।
ধর্মীয় বিধান পালনে প্রত্যেক মুসলমানের জন্য নির্দিষ্ট পরিমাণ জ্ঞান অর্জন করা বাধ্যতামূলক। ফরজে আইন ও কিফায়াহর পার্থক্যসহ প্রয়োজনীয় ধর্মীয় জ্ঞানের বিস্তারিত বিষয়গুলো জেনে নিন এই প্রতিবেদনে।


0 Comments