নেত্রকোনার হাওরবেষ্টিত প্রত্যন্ত গ্রাম থেকে উঠে এসে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে সাফল্যের স্বাক্ষর রেখেছেন প্রকৌশলী মো. শামসুল আলম। ২০২৪ সালে তিনি একই সঙ্গে তিনটি মর্যাদাপূর্ণ বৃত্তি—যুক্তরাজ্যের কমনওয়েলথ স্কলারশিপ, ইউরোপীয় ইউনিয়নের ইরাসমাস মুন্ডাস স্কলারশিপ এবং বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী ফেলোশিপ পাওয়ার গৌরব অর্জন করেন। শেষ পর্যন্ত কমনওয়েলথ স্কলারশিপ বেছে নিয়ে তিনি যুক্তরাজ্যের ইউনিভার্সিটি অব শেফিল্ড থেকে তড়িৎ ও ইলেকট্রনিক কৌশল বিষয়ে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি সম্পন্ন করেছেন।
শামসুল আলমের শিক্ষাজীবনের শুরু হয়েছিল নেত্রকোনার মদন উপজেলার গোবিন্দশ্রী প্রাথমিক বিদ্যালয় থেকে। বর্ষায় নৌকা আর প্রতিকূল যোগাযোগব্যবস্থার মাঝেও তিনি পড়াশোনা চালিয়ে যান। পরবর্তীতে চট্টগ্রাম প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (চুয়েট) থেকে ২০১৪ সালে তড়িৎ ও ইলেকট্রনিক কৌশল বিভাগে স্নাতক ডিগ্রি অর্জন করেন। চুয়েটে থাকাকালীন তিনি গবেষণার পাশাপাশি সাংবাদিকতা ও বিভিন্ন সাংগঠনিক কর্মকাণ্ডে সক্রিয় ছিলেন।
কর্মজীবনে শামসুল আলম রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্রে সাইট ইঞ্জিনিয়ার হিসেবে কাজ করেছেন। কাজের প্রয়োজনে তিনি রাশিয়ার সেন্ট পিটার্সবার্গে সরকারি প্রতিনিধি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। পরবর্তীতে ৩৮তম বিসিএসে উত্তীর্ণ হয়ে তিনি বিসিএস গণপূর্ত ক্যাডারে সহকারী প্রকৌশলী হিসেবে যোগদান করেন। কর্মক্ষেত্রে পদোন্নতি সংক্রান্ত কিছু জটিলতা থাকলেও তিনি উচ্চশিক্ষার লক্ষ্য থেকে বিচ্যুত হননি।
উচ্চশিক্ষায় তাঁর গবেষণার মূল বিষয় ছিল সৌরবিদ্যুৎকে কার্যকরভাবে গ্রিডে যুক্ত করার প্রযুক্তি। এই সাফল্যের পেছনে তিনি তাঁর স্ত্রী ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সহকারী অধ্যাপক রোকসানা ফিরদাউস নিগার এবং পরিবারের অনুপ্রেরণাকে প্রধান শক্তি হিসেবে উল্লেখ করেছেন। আন্তর্জাতিক পর্যায়ে অর্জিত এই জ্ঞান ও অভিজ্ঞতা দেশের নবায়নযোগ্য জ্বালানি ও টেকসই অবকাঠামো উন্নয়নে কাজে লাগাতে চান এই মেধাবী কর্মকর্তা।
নেত্রকোনার হাওর থেকে উঠে আসা বিসিএস ক্যাডার শামসুল আলম ২০২৪ সালে একই সঙ্গে তিনটি মর্যাদাপূর্ণ আন্তর্জাতিক বৃত্তি পেয়েছেন। যুক্তরাজ্যের শেফিল্ড বিশ্ববিদ্যালয় থেকে উচ্চশিক্ষা শেষ করে এখন তিনি দেশের সেবায় ফিরতে চান।


0 Comments