Recents in Beach

ব্রেকিং নিউজ

সামরিক খাতের দূষণ আড়াল করে জলবায়ু রক্ষা অসম্ভব: যুদ্ধ বন্ধ ও অর্থায়নের দাবি বিশ্বজুড়ে

সামরিক খাতের দূষণ আড়াল করে জলবায়ু রক্ষা অসম্ভব: যুদ্ধ বন্ধ ও অর্থায়নের দাবি বিশ্বজুড়ে

বিশ্বজুড়ে যুদ্ধ ও গণহত্যা বন্ধ করে জলবায়ু তৎপরতাকে সামরিকীকরণমুক্ত করার জোরালো দাবি উঠেছে। পরিবেশবাদীদের মতে, সামরিক খাতের গ্রিনহাউস গ্যাস নির্গমনের তথ্য গোপন রেখে জলবায়ু ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা সম্ভব নয়। বর্তমানে বৈশ্বিক কার্বন নিঃসরণের একটি বড় অংশ সামরিক কর্মকাণ্ড থেকে এলেও অধিকাংশ দেশ এই তথ্য আড়াল করে রাখছে।

গবেষণায় দেখা গেছে, বৈশ্বিক গ্রিনহাউস গ্যাস নির্গমনের প্রায় ৫.৫ শতাংশ আসে সামরিক খাত থেকে। অথচ প্যারিস জলবায়ু চুক্তিতে এই তথ্য প্রকাশ বাধ্যতামূলক না হওয়ায় দেশগুলো স্বচ্ছতা বজায় রাখছে না। নীতি বিশ্লেষক গ্রেস আলেক্সান্ডার এবং স্টকহোম ইন্টারন্যাশনাল পিস রিসার্চ ইনস্টিটিউটের (সিপ্রি) তথ্য অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্র, চীন ও রাশিয়ার মতো দেশগুলো তাদের সামরিক খাতের পূর্ণাঙ্গ তথ্য প্রকাশ করে না। ২০২৩-২৪ সালে সামরিক ব্যয় ৯.৪ শতাংশ বাড়লেও পরিবেশ রক্ষায় কার্যকর পদক্ষেপের অভাব পরিলক্ষিত হচ্ছে।

যুদ্ধের ভয়াবহতা কেবল প্রাণহানি নয়, পরিবেশের ওপরও দীর্ঘমেয়াদী প্রভাব ফেলে। রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের ফলে যে পরিমাণ কার্বন নিঃসরণ হয়েছে, তা ২৬০টি কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের নির্গমনের সমান। এছাড়া মিয়ানমার থেকে বাস্তুচ্যুত রোহিঙ্গাদের আশ্রয়ের ফলে বাংলাদেশের কক্সবাজারের বনাঞ্চল ও হাতির করিডর ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। অথচ বাংলাদেশ বৈশ্বিক নিঃসরণে মাত্র ০.৪ শতাংশ অবদান রেখেও জলবায়ু পরিবর্তনের চরম ঝুঁকিতে রয়েছে। উপকূলীয় নারীদের স্বাস্থ্যঝুঁকি এবং কৃষকদের উদ্বাস্তু হওয়ার ঘটনা এর প্রমাণ।

সাংবাদিক রুলা আসাদ ও গবেষক পাভেল পার্থের মতে, যুদ্ধ ও সামরিক বাণিজ্যের মাধ্যমে ঘটা কার্বন দূষণ গোপন রাখা বিশ্ববাসীর সঙ্গে প্রতারণার শামিল। তাই সামরিক খাতের কার্বন পদচ্ছাপ বা কার্বন বুটপ্রিন্ট বন্ধ করে জলবায়ু অর্থায়ন নিশ্চিত করার আহ্বান জানানো হয়েছে। জলবায়ু সংলাপকে ঔপনিবেশিকতা ও সামরিকায়নের বাইরে রেখে জনগণের জলবায়ু সংগ্রামকে বেগবান করার সময় এসেছে।

সংক্ষেপে:
যুদ্ধ ও সামরিক খাতের ভয়াবহ কার্বন নিঃসরণ আড়াল করে জলবায়ু রক্ষা সম্ভব নয়। বিশ্বজুড়ে সামরিক তৎপরতা বন্ধ ও জলবায়ু অর্থায়ন নিশ্চিত করার দাবি জোরালো হচ্ছে। পরিবেশ রক্ষায় স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি জরুরি।

Post a Comment

0 Comments