বাল্যবিবাহের অভিশাপ থেকে সমাজকে মুক্ত করতে বিয়ে নিবন্ধন প্রক্রিয়ায় আমূল পরিবর্তনের পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে সরকার। এই লক্ষ্য বাস্তবায়নে ‘বাল্যবিবাহ নিরোধ আইন, ২০১৭’ সংশোধনের কাজ শুরু হয়েছে। নতুন সংশোধনীতে সনাতন বা কাগজভিত্তিক জন্মসনদের পরিবর্তে অনলাইন বা ডিজিটাল জন্মনিবন্ধন রেকর্ড ব্যবহার বাধ্যতামূলক করার প্রস্তাব রাখা হয়েছে।
সোমবার (১৫ জুন) জাতীয় সংসদের অধিবেশনে এক লিখিত প্রশ্নের জবাবে এই গুরুত্বপূর্ণ তথ্য জানান মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রী আবু জাফর মোহাম্মদ জাহিদ হোসেন। তিনি সংসদকে অবহিত করেন যে, ইউনিসেফ ও ইউএনএফপিএর কারিগরি সহায়তায় বর্তমানে এই আইনের সংশোধনীর খসড়া তৈরির কাজ চলমান রয়েছে।
মন্ত্রী জানান, বিদ্যমান আইনের বিশেষ পরিস্থিতির সুযোগ নিয়ে অনেক ক্ষেত্রে বাল্যবিবাহ দেওয়ার প্রবণতা দেখা যায়। প্রস্তাবিত সংশোধনীর মাধ্যমে এই আইনি ফাঁকফোকর বন্ধের উদ্যোগ নেওয়া হবে। এছাড়া বিয়ে নিবন্ধনের সময় ডিজিটাল জন্মনিবন্ধন ব্যবহারের বাধ্যবাধকতা থাকলে ভুয়া সনদ তৈরি করে বয়স লুকানোর সুযোগ থাকবে না। এতে অপ্রাপ্তবয়স্কদের বিয়ে উল্লেখযোগ্য হারে হ্রাস পাবে বলে আশা করা হচ্ছে।
আবু জাফর মোহাম্মদ জাহিদ হোসেন আরও উল্লেখ করেন, দেশে এখনো ধর্মীয় রীতি মেনে অনেক বিয়ে সরকারি নিবন্ধন ছাড়াই সম্পন্ন হয়, যা নজরদারি ও আইন প্রয়োগের ক্ষেত্রে বড় বাধা। বাল্যবিবাহ পুরোপুরি নির্মূল করতে তিনি আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী, স্থানীয় প্রশাসন, সংসদ সদস্য এবং স্থানীয় সরকার প্রতিনিধিদের সমন্বিতভাবে কাজ করার ওপর বিশেষ গুরুত্বারোপ করেন।
বাল্যবিবাহ প্রতিরোধে কঠোর হচ্ছে সরকার। বিয়ে নিবন্ধনে ডিজিটাল জন্মনিবন্ধন বাধ্যতামূলক করতে আইন সংশোধনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। ভুয়া সনদ রোধে এই পদক্ষেপ কার্যকর ভূমিকা রাখবে বলে আশা করা হচ্ছে।


0 Comments