কিশোরগঞ্জের অষ্টগ্রামে পৈতৃক বসতভিটা ও পারিবারিক কবরস্থান দখল করে উপজেলা বিএনপির কার্যালয় নির্মাণের অভিযোগ উঠেছে দুই নেতার বিরুদ্ধে। দলীয় প্রভাব ব্যবহার করে এবং বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের এক নেতার সহায়তায় এই ভূমি দখলের ঘটনা ঘটেছে বলে দাবি করেছেন অষ্টগ্রাম উপজেলা ছাত্রদলের সাবেক সভাপতি সাখাওয়াত আলী খান বাবুল।
অভিযুক্ত দুই নেতা হলেন—অষ্টগ্রাম উপজেলা বিএনপির সভাপতি সৈয়দ সাঈদ আহমেদ এবং অষ্টগ্রাম সদর ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মো. সজু মিয়া। অভিযোগকারী সাখাওয়াত আলী খান বাবুল জানান, রাজনৈতিক প্রতিহিংসার শিকার হয়ে ২০১০ সালে তিনি দক্ষিণ কোরিয়ায় চলে যান। সেই সুযোগে তৎকালীন উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ফজলুল হক হায়দারী বাচ্চুর সহায়তায় তার ৯.৫ শতাংশ জমি দখল করে নেন ইউনিয়ন বিএনপি নেতা মো. সজু মিয়া।
ভুক্তভোগী এই সাবেক ছাত্রদল নেতা আরও অভিযোগ করেন, গত ৫ আগস্টের পর দেশে ফিরে তিনি জমি উদ্ধারের চেষ্টা করেন। কিন্তু উপজেলা বিএনপির সভাপতি সৈয়দ সাঈদ আহমেদের উপস্থিতিতে তার পারিবারিক কবরস্থানটি গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়। সেখানে জোরপূর্বক মাটি ভরাট করে আধাপাকা টিনশেড ভবন তুলে ‘বিএনপি কার্যালয়’ এর সাইনবোর্ড ঝুলিয়ে দেওয়া হয়েছে। এই বিষয়ে প্রতিবাদ করলে তাকে প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হচ্ছে বলেও তিনি দাবি করেন।
এই ন্যাক্কারজনক ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও বিচার চেয়ে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানসহ কেন্দ্রীয় ও জেলা নেতৃবৃন্দের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন ভুক্তভোগী বাবুল।
তবে এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন অষ্টগ্রাম উপজেলা বিএনপির সভাপতি সৈয়দ সাঈদ আহমেদ। তিনি দাবি করেন, কারো জায়গা দখল করে অফিস করা হয়নি এবং তাদের কাছে প্রয়োজনীয় সব কাগজপত্র রয়েছে। রাজনৈতিক প্রতিহিংসার বশবর্তী হয়ে সাখাওয়াত আলী খান বাবুল এই মিথ্যা অভিযোগ তুলছেন বলে তিনি মন্তব্য করেন।
কিশোরগঞ্জের অষ্টগ্রামে পৈতৃক জমি ও কবরস্থান দখল করে বিএনপি কার্যালয় নির্মাণের অভিযোগ উঠেছে দুই নেতার বিরুদ্ধে। ছাত্রদলের সাবেক এক নেতার করা এই অভিযোগ অস্বীকার করেছেন অভিযুক্ত বিএনপি নেতারা।

0 Comments