পশ্চিমবঙ্গে বিধানসভা নির্বাচনে পরাজয়ের পর তৃণমূল কংগ্রেসে বড় ধরনের ভাঙন ও অভ্যন্তরীণ কোন্দল দেখা দিয়েছে। গত ২৪ মে সাবেক মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বিজেপিকে হুঁশিয়ারি দিলেও বর্তমানে তাঁর নিজ দলেই সংকট ঘনীভূত হয়েছে। দলের ৮০ জন বিধায়কের মধ্যে প্রায় ৫৮ জন মমতার সিদ্ধান্ত উপেক্ষা করে নিজেদের বিরোধীদলীয় নেতা নির্বাচন করেছেন। এছাড়া লোকসভায় তৃণমূলের ২৮ জন এমপির মধ্যে ২০ জনই বিজেপির নেতৃত্বাধীন এনডিএ জোটে যোগ দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন বলে দাবি করেছেন প্রবীণ এমপি কাকলি ঘোষ দস্তিদার।
এই বিদ্রোহের মূল লক্ষ্য হিসেবে দেখা হচ্ছে তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে। বিদ্রোহী নেতাদের অভিযোগ, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ভাতিজা অভিষেক দলের অভ্যন্তরীণ গণতন্ত্র নষ্ট করেছেন এবং তাঁর বিরুদ্ধে ওঠা দুর্নীতির কারণে তৃণমূল জনসমর্থন হারিয়েছে। অন্যদিকে, তৃণমূলের অনুগত অংশটি দাবি করছে যে বিজেপি কেন্দ্রীয় সংস্থাকে ব্যবহার করে ভয় দেখিয়ে দল ভাঙার চক্রান্ত করছে।
সম্প্রতি বিধানসভার বিরোধীদলীয় নেতা নির্বাচনকে কেন্দ্র করে উত্তেজনা চরমে পৌঁছায়। তৃণমূলের পক্ষ থেকে ৮০ বছর বয়সী শোভনদেব চট্টোপাধ্যায়ের নাম প্রস্তাব করা হলেও বিদ্রোহী বিধায়করা ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়কে নেতা হিসেবে বেছে নেন। এই প্রক্রিয়ায় জালিয়াতির অভিযোগে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বাড়িতে পুলিশি অভিযানও চালানো হয়।
তৃণমূলের সংসদ সদস্য কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় এই পরিস্থিতির জন্য সরাসরি বিজেপিকে দায়ী করেছেন। তিনি জানান, দলত্যাগী এমপিরা দিল্লিতে কেন্দ্রীয় মন্ত্রী ভূপেন্দর যাদবের বাসভবনে বৈঠক করেছেন যেখানে শুভেন্দু অধিকারীও উপস্থিত ছিলেন। এদিকে, সাবেক ক্রিকেটার ও বহরমপুরের এমপি ইউসুফ পাঠানের বিদ্রোহী শিবিরে যোগ দেওয়ার খবরে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন কৃষ্ণনগরের এমপি মহুয়া মৈত্র। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, তৃণমূলের এই বিপর্যয়ের পেছনে সাংগঠনিক দুর্বলতা এবং আই-প্যাকের মতো পরামর্শক সংস্থার ওপর অতিরিক্ত নির্ভরশীলতা বড় ভূমিকা পালন করেছে।
পশ্চিমবঙ্গে ক্ষমতা হারানোর পর চরম সংকটে তৃণমূল কংগ্রেস। দলের অধিকাংশ বিধায়ক ও সংসদ সদস্য বিদ্রোহী হয়ে উঠেছেন। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ভাতিজা অভিষেকের বিরুদ্ধে ক্ষোভ থেকেই এই বড় ভাঙন।


0 Comments