নেত্রকোনার হাওরদ্বীপ খালিয়াজুরীতে প্রাকৃতিকভাবে উৎপাদিত শত শত কোটি টাকার দেশীয় মৎস্য সম্পদ এখন বিলুপ্তির পথে। বিষ প্রয়োগে মাছ ধরা, জলাশয় শুকিয়ে ফেলা এবং নিষিদ্ধ জালের ব্যবহারের ফলে এই অঞ্চলের ঐতিহ্যবাহী মৎস্য ভাণ্ডার দিন দিন সংকুচিত হচ্ছে। জেলা মৎস্য অফিসের তথ্যমতে, বর্ষায় বিশাল জলরাশি থাকলেও শুষ্ক মৌসুমে তা ব্যাপকভাবে কমে যায়। গত এক বছরে মাছের উৎপাদন কমেছে প্রায় ৭৩ মেট্রিক টন, যার ফলে আর্থিক ক্ষতির পরিমাণ দাঁড়িয়েছে প্রায় সাড়ে তিন কোটি টাকা।
খালিয়াজুরী উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা মাহবুবুর রহমান জানান, মাছের প্রজনন ক্ষেত্র রক্ষায় মরা ধনু, নামাবাজজুয়াইল, সিন্ধুকের বাগ, বাদিয়ারচর ও টানচুনাই—এই পাঁচটি জলাশয়কে অভয়াশ্রম ঘোষণার প্রস্তাব পাঠানো হয়েছে। অভয়াশ্রম কার্যকর হলে সেখানে সারা বছর মাছ ধরা নিষিদ্ধ থাকবে এবং মাছের নিরাপদ আশ্রয়স্থল গড়ে তোলা হবে। স্থানীয় জেলে পতাকী বর্মন, হীরন বর্মন, জয়কিশোর বর্মন ও পানু বর্মন জানান, আগের তুলনায় মাছের প্রাপ্যতা অনেক কমে যাওয়ায় এখন সংসার চালানো কঠিন হয়ে পড়েছে।
মৎস্য আড়ৎদার আক্তার হোসেন তালুকদার জানান, বিষ দিয়ে মাছ ধরা বন্ধ না হলে এই প্রাকৃতিক সম্পদ রক্ষা করা যাবে না। স্থানীয় সাংবাদিক মো. হাবিবুল্লাহর মতে, নিষিদ্ধ উপায়ে মাছ ধরা হলেও আইনি পদক্ষেপের অভাব রয়েছে। উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মাহাবুবুর রহমান কেষ্টু অভিযোগ করেন, সরকার জলমহাল থেকে কোটি কোটি টাকা রাজস্ব পেলেও সেগুলোর খনন বা রক্ষণাবেক্ষণে কোনো উদ্যোগ নিচ্ছে না। উপজেলা নির্বাহী অফিসার নাদির হোসেন শামীম জানান, আইন ভঙ্গের সুনির্দিষ্ট খবর পেলে প্রশাসন কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করবে। বর্তমানে এই অঞ্চলের মাছ দেশের চাহিদা মিটিয়ে বিদেশেও রপ্তানি হচ্ছে, তবে উৎপাদন কমতে থাকলে এর সুদূরপ্রসারী নেতিবাচক প্রভাব পড়বে অর্থনীতিতে।
নেত্রকোনার খালিয়াজুরীতে আশঙ্কাজনক হারে কমছে দেশীয় মাছের উৎপাদন। বিষ প্রয়োগ ও অবৈধ শিকারে হুমকিতে ১৫ হাজার জেলের জীবিকা। মৎস্য সম্পদ রক্ষায় দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া এখন সময়ের দাবি।

0 Comments