সাউদাম্পটনে নারী টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে পাকিস্তানকে ২৩ রানে হারিয়ে নতুন এক ইতিহাস রচনা করেছে বাংলাদেশ। এই জয়ের ফলে বিশ্বকাপের কোনো এক আসরে প্রথমবারের মতো দুটি ম্যাচ জেতার গৌরব অর্জন করল নিগার সুলতানার দল। এর আগে নিজেদের প্রথম ম্যাচে নেদারল্যান্ডসকে হারিয়েছিল টাইগ্রেসরা।
ম্যাচে ১২৫ রানের লক্ষ্যে খেলতে নেমে পাকিস্তান এক পর্যায়ে বিনা উইকেটে ৩৯ রান তুলে শক্তিশালী অবস্থানে ছিল। তবে বাঁহাতি স্পিনার নাহিদা আক্তার পাকিস্তানের দুই ওপেনারকে ফিরিয়ে ম্যাচের মোড় ঘুরিয়ে দেন। ১৮ বলে ২৩ রান করা গুল ফিরোজ এবং ৩০ বলে ২৫ রান করা মুনিবা আলী নাহিদার শিকার হয়ে সাজঘরে ফেরেন। এরপর সানজিদা আক্তারের বোলিং তোপে তাসের ঘরের মতো ভেঙে পড়ে পাকিস্তানের ব্যাটিং লাইনআপ। আয়েশা জাফর ১২ বলে ১১ রান করে সানজিদার বলে বিদায় নেন। পাকিস্তানের পক্ষে ফাতিমা সানা ১০ রান করলেও বাকি ব্যাটাররা দুই অঙ্কের ঘরে পৌঁছাতে ব্যর্থ হন। শেষ পর্যন্ত নির্ধারিত ২০ ওভারে ৮ উইকেট হারিয়ে ১০০ রানে থামে পাকিস্তানের ইনিংস।
এর আগে টস জিতে ব্যাটিংয়ে নেমে শুরুতেই বিপর্যয়ে পড়েছিল বাংলাদেশ। মাত্র ১৩ রানে ৩ উইকেট হারানোর পর সোবহানা মোস্তারি ও অধিনায়ক নিগার সুলতানা দলের হাল ধরেন। সোবহানা ১৯ বলে ২২ রান করে আউট হলে তাদের ২৯ বলে ৩৫ রানের জুটিটি ভেঙে যায়। নিগার সুলতানা ৩৮ বলে ৩৬ রান করে আউট হওয়ার পর দলের রানের গতি সচল রাখেন স্বর্ণা আক্তার। স্বর্ণার ২২ বলে ৩৯ রানের হার না মানা ঝড়ো ইনিংসের ওপর ভর করেই ১২৪ রানের লড়াকু পুঁজি পায় বাংলাদেশ।
বল হাতে বাংলাদেশের হয়ে নাহিদা আক্তার ও সানজিদা আক্তার দুর্দান্ত নৈপুণ্য প্রদর্শন করেন। ইনিংসের শেষ বলে মারুফা আক্তার উইকেটরক্ষক নিগার সুলতানার হাতে ক্যাচ বন্দি করে জয় নিশ্চিত করলে উল্লাসে মেতে ওঠে পুরো দল। বর্তমানে গ্রুপ ‘এ’-তে তৃতীয় অবস্থানে থাকা বাংলাদেশের পরবর্তী প্রতিপক্ষ ভারত ও দক্ষিণ আফ্রিকা।
নারী টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে পাকিস্তানকে ২৩ রানে হারিয়ে ইতিহাস গড়ল বাংলাদেশ। এক আসরে প্রথমবারের মতো দুটি ম্যাচ জয়ের গৌরব অর্জন করল নিগার সুলতানার দল। দুর্দান্ত এই জয়ে সেমিফাইনালের স্বপ্ন টিকে রইল টাইগ্রেসদের।


0 Comments