পাবনার ভাঙ্গুড়ায় সরকারি বিভিন্ন সুযোগ-সুবিধা পাইয়ে দেওয়ার নাম করে অর্ধশতাধিক মানুষের কাছ থেকে প্রায় অর্ধকোটি টাকা হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় এক বিএনপি নেতার বিরুদ্ধে। অভিযুক্তের নাম সোহেল রানা, যিনি উপজেলার পারভাঙ্গুড়া ইউনিয়নের রাঙ্গালিয়া গ্রামের বাসিন্দা এবং স্থানীয় বিএনপির একটি ওয়ার্ড কমিটির সহ-সভাপতি। ভুক্তভোগীরা তাকে আটক করে মারধরের পর পুলিশের হাতে তুলে দিয়েছেন।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গত কয়েক মাস ধরে ভিজিডি কার্ড, সরকারি ঘর ও পানির পাম্পসহ বিভিন্ন সরকারি সুবিধা দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়ে সাধারণ মানুষের কাছ থেকে বিপুল পরিমাণ অর্থ সংগ্রহ করেন সোহেল রানা। তবে দীর্ঘ সময় পার হলেও কেউ কোনো সুবিধা না পাওয়ায় ভুক্তভোগীদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়। ভুক্তভোগী সোহেল আহমেদ জানান, সরকারি চালের কার্ড করে দেওয়ার কথা বলে তার কাছ থেকে ছয় হাজার টাকা নেওয়া হলেও এক বছরেও তিনি কার্ড পাননি। অপর এক ভুক্তভোগী তায়জাল হোসেন অভিযোগ করেন, সরকারি ঘর দেওয়ার আশ্বাসে তিনি সোহেল রানাকে ৫০ হাজার টাকা দিলেও কোনো সুফল পাননি।
শুক্রবার রাতে ভাঙ্গুড়া বাসস্ট্যান্ড এলাকায় কয়েকজন ভুক্তভোগী সোহেল রানাকে দেখতে পেয়ে তাকে আটক করেন। পরে বিক্ষুব্ধ জনতা তাকে মারধর করে থানায় সোপর্দ করেন। এ ঘটনায় প্রায় ৩০ জন ভুক্তভোগী থানায় লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন। অভিযুক্ত সোহেল রানার স্ত্রী শিখা এ প্রসঙ্গে বলেন, তার স্বামী একজন প্রতারক হিসেবে পরিচিত হলেও মানুষ কেন তাকে টাকা দিয়েছে তা নিয়ে তিনি প্রশ্ন তোলেন। তবে মারধরের কারণে এখন টাকা পরিশোধ করতে হবে বলেও তিনি মন্তব্য করেন।
ভাঙ্গুড়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সাকিউল আযম জানান, সরকারি সুবিধা দেওয়ার নামে প্রতারণার অভিযোগে একটি লিখিত অভিযোগ পাওয়া গেছে। বিষয়টি গুরুত্বের সাথে তদন্ত করা হচ্ছে এবং উপজেলা প্রশাসনের কাছেও অভিযোগ দেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। তদন্তে প্রাপ্ত তথ্যের ভিত্তিতে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
পাবনার ভাঙ্গুড়ায় সরকারি ঘর ও কার্ড দেওয়ার নামে অর্ধকোটি টাকা হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগে বিএনপি নেতা সোহেল রানাকে আটক করে পুলিশে দিয়েছে জনতা। এ ঘটনায় থানায় লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন ভুক্তভোগীরা।

0 Comments