Recents in Beach

ব্রেকিং নিউজ

ভূ-রাজনীতিতে বড় পরিবর্তন: সাত বছর পর উত্তর কোরিয়া সফরে যাচ্ছেন চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং

ভূ-রাজনীতিতে বড় পরিবর্তন: সাত বছর পর উত্তর কোরিয়া সফরে যাচ্ছেন চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং

দীর্ঘ সাত বছরের ব্যবধানে উত্তর কোরিয়া সফরে যাচ্ছেন চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং। আগামী সোমবার (৮ জুন) পিয়ংইয়ংয়ে উত্তর কোরিয়ার শীর্ষ নেতা কিম জং উনের সঙ্গে তার একটি গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। আঞ্চলিক ভূ-রাজনীতিতে চলমান অস্থিরতা এবং উত্তর কোরিয়ার ক্রমবর্ধমান সামরিক কর্মসূচির মধ্যে শি জিনপিংয়ের এই সফরকে বিশেষ গুরুত্বের সাথে দেখছেন আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকরা।

সাম্প্রতিক বছরগুলোতে শি জিনপিংয়ের বিদেশ সফরের প্রবণতা কমে এলেও পিয়ংইয়ং সফর বেইজিংয়ের বিশেষ কৌশলগত অবস্থানের ইঙ্গিত দেয়। পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ২০১৩ থেকে ২০১৯ সাল পর্যন্ত শি বছরে গড়ে ১৪টি বিদেশ সফর করলেও সাম্প্রতিক বছরগুলোতে তা মাত্র ৬টিতে নেমে এসেছে। বিশ্লেষকদের ধারণা, রাশিয়ার সঙ্গে উত্তর কোরিয়ার অতিমাত্রায় ঘনিষ্ঠতা নিয়ে বেইজিংয়ের উদ্বেগের কারণেই এই আকস্মিক সফরের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

ঐতিহ্যগতভাবে উত্তর কোরিয়ার বাণিজ্যের সিংহভাগ চীনের ওপর নির্ভরশীল হলেও ইউক্রেন যুদ্ধের পর সমীকরণে পরিবর্তন এসেছে। দক্ষিণ কোরিয়ার ‘ইনস্টিটিউট ফর ন্যাশনাল সিকিউরিটি স্ট্র্যাটেজি’র তথ্যমতে, মস্কো উত্তর কোরিয়াকে সৈন্য ও ক্ষেপণাস্ত্রের বিনিময়ে প্রায় ১৪.৪ বিলিয়ন ডলার এবং গোপন সামরিক প্রযুক্তি সরবরাহ করেছে। গবেষক লি সাং ইয়ং জানান, পিয়ংইয়ং যাতে পুরোপুরি রাশিয়ার বলয়ে চলে না যায়, সেজন্য চীন নতুন অর্থনৈতিক প্রণোদনার প্রস্তাব দিতে পারে।

ইন্টারন্যাশনাল ক্রাইসিস গ্রুপের উত্তর-পূর্ব এশিয়া বিষয়ক প্রধান বিশ্লেষক উইলিয়াম ইয়াং মনে করেন, উত্তর কোরিয়া অতিরিক্ত শক্তিশালী হয়ে উঠলে তা কোরীয় উপদ্বীপের স্থিতিশীলতা নষ্ট করতে পারে। চলতি বছরে পিয়ংইয়ংয়ের আটটি ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষা এবং কিম জং উনের পারমাণবিক কারখানা পরিদর্শন বেইজিংয়ের জন্য চিন্তার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। এদিকে দক্ষিণ কোরিয়ার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় আশা প্রকাশ করেছে যে, শি জিনপিংয়ের এই সফর সংকট নিরসনে গঠনমূলক ভূমিকা রাখবে। মূলত পূর্ব এশিয়ায় নিজস্ব নিয়ন্ত্রণ বজায় রাখাই এই সফরের মূল উদ্দেশ্য।

সংক্ষেপে:
সাত বছর পর উত্তর কোরিয়া সফরে যাচ্ছেন চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং। কিম জং উনের সঙ্গে তার এই বৈঠক আঞ্চলিক ভূ-রাজনীতি ও রাশিয়ার ক্রমবর্ধমান প্রভাব নিয়ন্ত্রণে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে।

Post a Comment

0 Comments