২০১৭ সালের ১৩ জুন রাঙামাটিতে ঘটে যাওয়া ভয়াবহ পাহাড়ধসের সেই মর্মান্তিক স্মৃতি আজও স্থানীয়দের মনে আতঙ্ক সৃষ্টি করে। সেদিনের সেই প্রাকৃতিক বিপর্যয়ে প্রাণ হারিয়েছিলেন শতাধিক মানুষ, যার ক্ষত এখনো বয়ে বেড়াচ্ছেন স্বজনহারা পরিবারগুলো। ভেদভেদী এলাকার বাসিন্দা আবদুল কুদ্দুস সেই ভয়াল রাতে তার স্ত্রী রুমি আক্তারকে পাহাড়ের নিচে চাপা পড়ে হারিয়েছিলেন। দীর্ঘ সময় পার হলেও স্ত্রীর মৃতদেহটি পর্যন্ত খুঁজে পাননি তিনি। এমন অসংখ্য করুণ স্মৃতির পরেও রাঙামাটির বিভিন্ন এলাকায় পাহাড়ের পাদদেশে ও খাড়া ঢালে ঝুঁকিপূর্ণভাবে বসবাস করছে মানুষ।
সরেজমিনে দেখা গেছে, শিমুলতলী, নতুন পাড়া ও ভেদভেদীসহ বিভিন্ন এলাকায় পাহাড় কেটে বা খাড়া ঢালের নিচে অত্যন্ত বিপজ্জনকভাবে টিনশেড ও আধা-পাকা ঘরবাড়ি তৈরি করা হয়েছে। অনেক জায়গায় ধস ঠেকাতে বস্তা ও টিন দিয়ে অস্থায়ী প্রতিরোধ ব্যবস্থা গড়ে তোলা হলেও তা পর্যাপ্ত নয়। এমনকি বিটিভি রাঙামাটি কেন্দ্রের নিচের ঢালেও অপরিকল্পিতভাবে ঘরবাড়ি ছড়িয়ে ছিটিয়ে রয়েছে। আসন্ন বর্ষা মৌসুমে এসব এলাকায় নতুন করে বড় ধরনের পাহাড়ধসের শঙ্কা দেখা দিয়েছে। বিকল্প বাসস্থানের অভাব ও অসচেতনতার কারণে জীবনের ঝুঁকি জেনেও মানুষ এসব ঝুঁকিপূর্ণ স্থানে অবস্থান করছে।
রাঙামাটিতে ২০১৭ সালের ভয়াবহ পাহাড়ধসের স্মৃতি আজও অমলিন। স্বজন হারানোর আর্তনাদ ছাপিয়ে আসন্ন বর্ষায় আবারও পাহাড়ের পাদদেশে বাড়ছে ঝুঁকিপূর্ণ বসতি ও নতুন বিপর্যয়ের শঙ্কা।

0 Comments