ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের বাজেট অধিবেশনে কক্সবাজারের সামগ্রিক উন্নয়ন ও অবহেলিত জনপদের ভাগ্য পরিবর্তনে একগুচ্ছ গুরুত্বপূর্ণ দাবি উত্থাপন করেছেন কক্সবাজার-৩ (সদর-রামু-ঈদগাঁও) আসনের সংসদ সদস্য লুৎফর রহমান কাজল। বক্তব্যে তিনি বলেন, কক্সবাজার জেলার পর্যটন সম্পদ, মৎস্য, লবণ, বন্দর ও সীমান্ত বাণিজ্য জাতীয় অর্থনীতির জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তাই কক্সবাজার শহরকে কেবল সাধারণ পর্যটন কেন্দ্র হিসেবে নয়, বরং একটি সমন্বিত সামুদ্রিক অর্থনৈতিক অঞ্চল বা ইন্টিগ্রেটেড মেরিটাইম ইকোনমিক জোন হিসেবে গড়ে তোলা প্রয়োজন।
সংসদ সদস্য লুৎফর রহমান কাজল কক্সবাজারের সম্ভাবনাময় খাতের উন্নয়নে সরকারের কাছে বেশ কিছু জোরালো দাবি পেশ করেন। এর মধ্যে রয়েছে সমুদ্র বিজ্ঞান, সামুদ্রিক জীববৈচিত্র্য ও ব্লু-ইকোনমি গবেষণার জন্য একটি বিশেষায়িত পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা এবং পর্যটন নগরীর গুরুত্ব বিবেচনায় কক্সবাজার পৌরসভাকে সিটি কর্পোরেশনে উন্নীত করা। এছাড়া পর্যটন খাতে দেশি-বিদেশি বিনিয়োগ আকর্ষণে ওয়ান স্টপ সার্ভিস চালু এবং লবণ চাষীদের ন্যায্য মূল্য নিশ্চিত করতে একটি স্বতন্ত্র ‘লবণ বোর্ড’ গঠনের প্রস্তাব দেন তিনি।
যোগাযোগ ও অবকাঠামোগত উন্নয়নে তিনি চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়ককে ৬ লেনে উন্নীত করা এবং নবগঠিত ঈদগাঁও উপজেলার প্রশাসনিক ভবন, ফায়ার সার্ভিস স্টেশন ও পূর্ণাঙ্গ স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স দ্রুত নির্মাণের দাবি জানান। পাশাপাশি রামুর ফতেখাঁরকুল ইউনিয়নকে পৌরসভায় রূপান্তর এবং রামুর পূর্বাঞ্চল নিয়ে নতুন ‘বাঁকখালী উপজেলা’ গঠনের সম্ভাব্যতা যাচাইয়ের অনুরোধ করেন। শিক্ষাক্ষেত্রে কক্সবাজার সিটি কলেজ ও ঈদগাঁও রশিদ আহমদ কলেজকে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে সরকারি করার ওপরও গুরুত্বারোপ করেন তিনি। এমপি কাজলের এসব দাবি বাস্তবায়িত হলে পর্যটন রাজধানী কক্সবাজার দেশের অন্যতম প্রধান অর্থনৈতিক হাবে পরিণত হবে বলে আশা করছেন স্থানীয় সচেতন মহল।
বাজেট অধিবেশনে কক্সবাজারকে সিটি কর্পোরেশন ও সামুদ্রিক অর্থনৈতিক অঞ্চল করার দাবি জানিয়েছেন এমপি লুৎফর রহমান কাজল। পর্যটন ও অর্থনীতির উন্নয়নে একগুচ্ছ প্রস্তাবনা তুলে ধরেন তিনি।


0 Comments