জাতীয় সংসদে ছাত্রশিবিরের সাবেক কেন্দ্রীয় নেতা জিসান মিয়া প্রধানের নিখোঁজ সংক্রান্ত স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদের এক বিবৃতিকে কেন্দ্র করে সরকারি ও বিরোধী দলের মধ্যে তীব্র উত্তেজনা সৃষ্টি হয়েছে। আজ রোববার ৩০০ বিধিতে দেওয়া এই বিবৃতিতে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী দাবি করেন, এক নারীকে বিয়ে না করার টালবাহানায় জিসান নিজেই আত্মগোপন করেছিলেন।
ডেপুটি স্পিকার কায়সার কামালের অনুমতি নিয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী 'বাংলাদেশ ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় সহকারী আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক মো. জিসান মিয়া প্রধানের ঘটনার সংক্ষিপ্ত বিবরণী' সংসদে তুলে ধরেন। তিনি জানান, ফেসবুকে পরিচয়ের সূত্র ধরে এক নারীর সঙ্গে জিসানের প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে। বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে ধর্ষণের ফলে ওই নারী অন্তঃসত্ত্বা হলে জিসান তাকে ভ্রূণ নষ্ট করতে বাধ্য করেন। জিসান তার পরিচিত সিকান্দর আলীর ওষুধের দোকান থেকে ট্যাবলেট কিনে ভিকটিমকে খাওয়ান। পরবর্তীতে বিয়ে করার চাপ দিলে গত ১১ জুন তিনি আত্মগোপনে চলে যান।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর এই বক্তব্যের কড়া প্রতিবাদ জানান বিরোধীদলীয় উপনেতা সৈয়দ আবদুল্লাহ মুহাম্মদ তাহের। তিনি অভিযোগ করেন, একটি নির্দিষ্ট দলকে লক্ষ্য করে বিতর্কিত এই বক্তব্য দেওয়া হয়েছে এবং এটি একটি 'প্লট তৈরির' অংশ। তিনি জিসানের বর্তমান অবস্থান নিয়ে প্রশ্ন তোলেন এবং স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর বক্তব্য প্রত্যাহারের দাবি জানান। এ সময় বিরোধী দলের সদস্যদের হইচই ও প্রতিবাদের মুখে সংসদে বিশৃঙ্খল পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। ডেপুটি স্পিকার সবাইকে শান্ত হওয়ার আহ্বান জানিয়ে সংসদীয় রীতিনীতি অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দেন।
বিয়ে এড়াতে শিবির নেতা জিসান মিয়ার আত্মগোপন নিয়ে সংসদে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর দেওয়া বিবৃতিতে সরকারি ও বিরোধী দলের মধ্যে উত্তেজনা সৃষ্টি হয়েছে। বিরোধী দল একে পরিকল্পিত প্লট হিসেবে দাবি করেছে।

0 Comments