চিত্রনায়িকা ইয়ামিন হক ববির স্বামী মির্জা আবুল বাশার মামুনকে দীর্ঘ ১৮ ঘণ্টার শ্বাসরুদ্ধকর অভিযানের পর গ্রেফতার করেছে পুলিশ। বাথরুমের ভেতরে বিশেষ কায়দায় তৈরি করা ফলস সিলিংয়ের আড়ালে লুকিয়ে থেকেও শেষ পর্যন্ত পুলিশের হাত থেকে রেহাই পাননি তিনি। তার বিরুদ্ধে প্রতারণাসহ একাধিক মামলা রয়েছে বলে নিশ্চিত করেছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। শনিবার ডিএমপি মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে গুলশান বিভাগের অতিরিক্ত উপ-পুলিশ কমিশনার আল আমিন হোসেন এই গ্রেফতারের বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য প্রদান করেন।
পুলিশ জানায়, গুলশান থানায় দায়ের করা একটি মামলার প্রেক্ষিতে শুক্রবার রাতে মামুনকে ধরতে অভিযান শুরু হয়। ফ্ল্যাটের বিভিন্ন স্থানে তল্লাশি চালিয়েও শুরুতে তার কোনো হদিস পাওয়া যাচ্ছিল না। তবে বাথরুমের একটি অংশের গঠন দেখে পুলিশের সন্দেহ হয়। নিবিড় তল্লাশির এক পর্যায়ে দেখা যায়, বাথরুমের দেয়ালের আড়ালে অত্যন্ত সুকৌশলে একটি গোপন কক্ষ তৈরি করা হয়েছে। সেখানেই আত্মগোপন করে ছিলেন মামুন। দীর্ঘ সময়ের প্রচেষ্টায় পুলিশ তাকে সেখান থেকে আটক করতে সক্ষম হয়।
বিটিএল গ্রুপের মালিক মির্জা আবুল বাশার মামুনের বিরুদ্ধে অভিযোগ রয়েছে যে, তিনি দেশের বিভিন্ন জেলার ব্যবসায়ীদের টার্গেট করে প্রতারণা করতেন। জমি কেনাবেচা এবং চাল ও তেলের ডিলারশিপ দেওয়ার প্রলোভন দেখিয়ে তিনি কোটি কোটি টাকা আত্মসাৎ করেছেন। এছাড়া পুলিশ ও সেনাবাহিনীর ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের নাম ভাঙিয়ে প্রতারণা করার অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে। পুলিশ আরও জানিয়েছে, এই সকল প্রতারণামূলক কর্মকাণ্ডে চিত্রনায়িকা ববির কোনো ধরনের সম্পৃক্ততা আছে কি না তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। তদন্তে প্রমাণ পাওয়া গেলে তাকেও আইনের আওতায় আনা হবে বলে জানানো হয়েছে।
চিত্রনায়িকা ববির স্বামী মির্জা আবুল বাশার মামুনকে বাথরুমের গোপন কক্ষ থেকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। প্রতারণার মাধ্যমে কোটি টাকা হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগে দীর্ঘ ১৮ ঘণ্টা অভিযানের পর তাকে ধরা হয়।


0 Comments