ভারতের সঙ্গে সম্পর্কের ক্ষেত্রে বাংলাদেশ তার অগ্রাধিকার নির্ধারণ করলে দিল্লি আলোচনায় বসতে আগ্রহী বলে জানিয়েছেন ভারতের পররাষ্ট্র সচিব বিক্রম মিশ্রি। গত সোমবার নয়াদিল্লিতে সফররত বাংলাদেশি সাংবাদিকদের একটি প্রতিনিধিদলের সঙ্গে মতবিনিময়কালে তিনি এই আগ্রহ প্রকাশ করেন। তিনি জানান, বিগত সময়ের টানাপোড়েন কাটিয়ে ভারত ঢাকার সঙ্গে সম্পর্ক সামনে এগিয়ে নিতে চায়।
বিক্রম মিশ্রি বলেন, পারস্পরিক মর্যাদা ও স্বার্থই হবে দুই দেশের সম্পর্কের মূল ভিত্তি। ভারত বাংলাদেশের সঙ্গে সক্রিয়ভাবে যুক্ত হতে আগ্রহী এবং দুই দেশের জনগণের কল্যাণে উভয় পক্ষ একসঙ্গে কাজ করবে বলে তিনি বিশ্বাস করেন। তিনি উল্লেখ করেন, বাংলাদেশ একটি স্বাধীন রাষ্ট্র হিসেবে নিজের সিদ্ধান্ত নিজেই নিতে পারে। তবে ভারত চায় না যে তৃতীয় কোনো দেশের সঙ্গে বাংলাদেশ এমন কোনো সম্পর্কে জড়াক, যা বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্কের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলে।
মতবিনিময়কালে তিস্তার পানিবণ্টন, গঙ্গা চুক্তির নবায়ন, শেখ হাসিনার প্রত্যাবাসন এবং ভিসাসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে আলোচনা হয়। গঙ্গা চুক্তি নবায়নের বিষয়ে তিনি জানান, প্রায় তিন দশক আগের এই চুক্তিটি অত্যন্ত কার্যকর এবং এটি প্রতিষ্ঠিত প্রাতিষ্ঠানিক চ্যানেলের মাধ্যমেই নবায়ন করা হবে। শেখ হাসিনাকে ফিরিয়ে দেওয়ার প্রশ্নে সরাসরি কোনো উত্তর না দিয়ে তিনি বলেন, সব বিষয়ে বাস্তবসম্মত উপায়ে যোগাযোগ বাড়াতে চায় ভারত।
বিগত নির্বাচনে ভারতের হস্তক্ষেপের দাবি নাকচ করে পররাষ্ট্র সচিব বলেন, ভারত কোনো ‘ইলেকশন ইঞ্জিনিয়ারিং’-এ জড়িত ছিল না। বাংলাদেশের জনগণই তাদের নেতা নির্বাচন করবে এবং যে সরকারই ক্ষমতায় থাকুক, ভারত তাদের সঙ্গেই কাজ করবে। এছাড়া ভিসা প্রক্রিয়া দ্রুত স্বাভাবিক করার আশ্বাস দিয়ে তিনি জানান, ইতোমধ্যে মেডিকেল ভিসা বাড়ানো হয়েছে। সীমান্তে বিষাক্ত সাপ ও কুমির ছাড়ার খবরটিকে তিনি ভিত্তিহীন বলে উড়িয়ে দেন।
বাংলাদেশের সঙ্গে বিদ্যমান টানাপোড়েন কাটিয়ে সম্পর্ক এগিয়ে নিতে চায় ভারত। পারস্পরিক মর্যাদা ও স্বার্থের ভিত্তিতে আলোচনার মাধ্যমে সব সমস্যার সমাধানে দিল্লির আগ্রহের কথা জানিয়েছেন ভারতের পররাষ্ট্র সচিব।

0 Comments