ক্যারিবীয় ও পূর্ব প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলে মাদক পাচারকারী সন্দেহে নৌযানে মার্কিন হামলায় এ পর্যন্ত প্রায় ২০০ জন নিহত হয়েছেন। সম্প্রতি ‘লাতিন আমেরিকান সেন্টার ফর ইনভেস্টিগেটিভ জার্নালিজম’ বা ক্লিপের নেতৃত্বে ২০ জন সাংবাদিকের একটি যৌথ অনুসন্ধানে নিহতদের মধ্যে ১৩ জনের পরিচয় শনাক্ত করা হয়েছে। পাঁচ মাসব্যাপী এই অনুসন্ধানে দেখা গেছে, নিহতদের অনেকেই ছিলেন চরম দারিদ্র্যপীড়িত সম্প্রদায়ের মানুষ এবং কয়েকজনের মাদক পাচারে জড়িত থাকার কোনো প্রমাণ পাওয়া যায়নি।
ট্রাম্প প্রশাসন এই হামলাগুলোকে ‘মাদক-সন্ত্রাসী’ দমনের অংশ হিসেবে যৌক্তিক প্রমাণের চেষ্টা করলেও সমালোচকরা একে বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড হিসেবে বর্ণনা করেছেন। মার্কিন সামরিক বাহিনীর সাউদার্ন কমান্ডের দাবি, এসব হামলা পরিকল্পিত ও আইনসম্মত ছিল। তবে অনুসন্ধানে উঠে এসেছে যে, নিহতদের বড় অংশই পরিবারকে সহায়তার জন্য যেকোনো কাজ করতে বাধ্য হওয়া যুবক। শনাক্ত হওয়া ১৬ জন ভুক্তভোগীর মধ্যে আটজন ভেনেজুয়েলার, তিনজন কলম্বিয়ার, দুইজন ইকুয়েডরের, দুইজন ত্রিনিদাদের এবং একজন সেন্ট লুসিয়ার নাগরিক।
নিরাপত্তা বিশ্লেষকদের মতে, এই হামলাগুলো যুক্তরাষ্ট্রে মাদকের প্রবাহ কমাতে তেমন ভূমিকা রাখতে পারেনি; বরং দরিদ্র ও দুর্বল সম্প্রদায়গুলোকে আরও ক্ষতিগ্রস্ত করেছে। অনেক এলাকায় বোমা হামলার আতঙ্কে মৎস্যজীবীরা মাছ ধরা বন্ধ রাখায় অনাহারে দিন কাটাচ্ছেন স্থানীয়রা। মানবাধিকার সংস্থাগুলো এই হত্যাকাণ্ডের নিন্দা জানালেও এ ধরনের সামরিক তৎপরতা অব্যাহত রয়েছে।
মাদক পাচারকারী সন্দেহে ক্যারিবীয় অঞ্চলে মার্কিন হামলায় নিহত প্রায় ২০০ জন। অনুসন্ধানে ১৩ জনের পরিচয় মিলেছে, যাঁদের অনেকেই ছিলেন দরিদ্র মৎস্যজীবী। বিচারবহির্ভূত এই হত্যাকাণ্ডে ক্ষোভ বাড়ছে।

0 Comments