আজ মহান মে দিবস। ১৮৮৬ সালে যুক্তরাষ্ট্রের শিকাগো শহরের হে মার্কেটে আট ঘণ্টা কর্মদিবসের দাবিতে জীবন দেওয়া শ্রমিকদের আত্মত্যাগের স্মরণে বিশ্বজুড়ে দিনটি পালিত হচ্ছে। বাংলাদেশেও শ্রমজীবী মানুষের অধিকার ও মর্যাদা প্রতিষ্ঠার লক্ষে দিবসটি পালিত হচ্ছে। বাংলাদেশের সংবিধানে মেহনতি মানুষকে শোষণমুক্ত করার অঙ্গীকার থাকলেও স্বাধীনতার দীর্ঘ সময় পরও শ্রমিকেরা নানাভাবে বঞ্চিত।
সাম্প্রতিক বছরগুলোতে ন্যায্য দাবি আদায়ে আন্দোলন করতে গিয়ে শ্রমিকদের দমন-পীড়ন ও হত্যার শিকার হতে হয়েছে। এছাড়া বৈশ্বিক অস্থিরতা ও মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতির কারণে প্রবাসী শ্রমিকদের জীবনেও শঙ্কা তৈরি হয়েছে। দেশে ক্রমবর্ধমান মূল্যস্ফীতি ও জ্বালানি তেলের দাম বৃদ্ধি শ্রমজীবীদের জীবনযাত্রায় বড় চাপ সৃষ্টি করেছে। বিশেষ করে পোশাক ও চা খাতসহ বিভিন্ন খাতে বাংলাদেশের শ্রমিকদের মজুরি প্রতিবেশী দেশগুলোর তুলনায় অনেক কম।
দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নে শ্রমিকদের অবদান অনস্বীকার্য হলেও ৮৫ শতাংশের বেশি শ্রমজীবী অনানুষ্ঠানিক খাতে যুক্ত থাকায় তারা আইনি সুরক্ষা ও নিয়মিত মজুরি থেকে বঞ্চিত। আন্তর্জাতিক শ্রম সংস্থা (আইএলও) বাংলাদেশের শ্রম পরিস্থিতি ও আইন সংস্কার নিয়ে বিভিন্ন সময় উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। সম্প্রতি শ্রম আইন সংস্কারের ক্ষেত্রে শ্রমিকদের স্বার্থ ক্ষুণ্ন হওয়ার অভিযোগ উঠেছে। সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, শ্রমিকদের শোষণ ও বঞ্চনা থেকে মুক্ত রাখা গেলেই মে দিবস পালন সার্থক হবে। শ্রমিক বাঁচলে শিল্প বাঁচবে এবং শিল্পের মাধ্যমেই দেশ এগিয়ে যাবে।
মহান মে দিবসে শ্রমিকদের অধিকার ও মর্যাদা রক্ষার আহ্বান জানানো হয়েছে। শোষণমুক্ত সমাজ ও ন্যায্য মজুরি নিশ্চিত করার মাধ্যমেই শ্রমজীবী মানুষের জীবনমান উন্নয়ন সম্ভব। শ্রমিক বাঁচলে তবেই শিল্প ও দেশ বাঁচবে।
সূত্র: প্রথম আলো

0 Comments