আজ শুভ বুদ্ধপূর্ণিমা। বাংলাদেশের মতো বহু ধর্ম, সংস্কৃতি ও বৈচিত্র্যের দেশে এই দিনটি কেবল একটি ধর্মীয় তিথি নয়, বরং সহিষ্ণুতা, সম্প্রীতি ও মানবিকতার এক অনন্য স্মারক। গৌতম বুদ্ধের জন্ম, বোধিলাভ ও মহাপরিনির্বাণের এই পুণ্য তিথি বিশ্বশান্তির এক গভীর বার্তা বহন করে।
বর্তমান সময়ে বৈশ্বিক অস্থিরতা, সামাজিক বিভাজন ও নানা উসকানির মুখে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি যখন চ্যালেঞ্জের মুখে, তখন বুদ্ধপূর্ণিমা আমাদের মনে করিয়ে দেয় যে শান্তি বাইরে থেকে আসে না, তা গড়তে হয় মানুষের ভেতর থেকে। মানবসভ্যতার ইতিহাসে এই দিনটির বিশেষ তাৎপর্য রয়েছে। কিন্তু আজকের পৃথিবীতে প্রযুক্তির উন্নতি হলেও মানবিকতার জায়গাটি সংকুচিত হয়ে আসছে। মধ্যপ্রাচ্য, পূর্ব ইউরোপ কিংবা ফিলিস্তিনসহ বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তে চলমান যুদ্ধ ও রক্তপাত মানুষের ভেতরের লোভ, ক্রোধ ও অন্ধ আসক্তিরই বহিঃপ্রকাশ।
আড়াই হাজার বছর আগে গৌতম বুদ্ধ মানুষের মনের এই অস্থিরতা বুঝতে পেরেছিলেন। তিনি শিখিয়েছিলেন, লোভ, দ্বেষ ও মোহ দূর করতে পারলেই সত্যিকারের মুক্তি সম্ভব। তাঁর ‘মধ্যমার্গ’ দর্শন আমাদের শেখায় যে চরম ভোগ বা চরম ত্যাগ নয়, বরং ভারসাম্যপূর্ণ জীবনই শান্তির মূল ভিত্তি। এছাড়া সকল জীবের প্রতি সমান সহানুভূতি বা ‘মৈত্রী’ ও ‘করুণা’র শিক্ষা আজও সমানভাবে প্রাসঙ্গিক।
‘সব্বে সত্তা সুখিতা হোন্তু’—সকল জীব সুখী হোক, এই ভাবনা কেবল প্রার্থনার মধ্যে সীমাবদ্ধ না রেখে দায়বদ্ধতা হিসেবে গ্রহণ করলে যুদ্ধের প্রয়োজনীয়তা অনেকটাই কমে যেত। বুদ্ধপূর্ণিমার এই দিনে কেবল আনুষ্ঠানিকতা নয়, বরং বুদ্ধের অহিংস দর্শনকে জীবনে ধারণ করার মাধ্যমেই যুদ্ধবিধ্বস্ত বিশ্বে শান্তির বীজ বপন করা সম্ভব।
শুভ বুদ্ধপূর্ণিমা আজ। যুদ্ধ ও সংঘাতে অস্থির এই পৃথিবীতে শান্তি ফেরাতে গৌতম বুদ্ধের অহিংসা ও মৈত্রীর দর্শন এখন সময়ের দাবি। সম্প্রীতি ও মানবিকতার আলোয় দূর হোক সব বিভেদ ও হিংসা।
সূত্র: প্রথম আলো

0 Comments