শনিবার কলকাতার ব্রিগেড প্যারেড গ্রাউন্ডে নতুন সরকারের শপথগ্রহণ অনুষ্ঠানকে কেন্দ্র করে এক অনন্য সাংস্কৃতিক আবহের সৃষ্টি হয়েছে। রাজনৈতিক বার্তার পাশাপাশি বাংলার মাটি, সংস্কৃতি ও আবেগকে প্রাধান্য দিয়ে বিজেপি তাদের নতুন রাজনৈতিক বয়ান তুলে ধরার চেষ্টা করেছে। বিরোধীদের ‘সংস্কৃতিহীন’ তকমা ঘুচাতে মঞ্চজুড়ে ছিল রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর, স্বামী বিবেকানন্দ ও নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসুর প্রতিকৃতি।
পুরো ব্রিগেড চত্বরে বাউল গান, ঝুমুর ও আদিবাসী লোকনৃত্যের মাধ্যমে গ্রামীণ বাংলার ঐতিহ্যকে তুলে ধরা হয়। বিশেষ করে পশ্চিমাঞ্চলের ঝুমুর ও আদিবাসী নৃত্যকে এবার অধিক গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। সাংস্কৃতিক প্রদর্শনীর পাশাপাশি খাবারের আয়োজনেও ছিল বাঙালিয়ানার ছোঁয়া। কয়েক হাজার প্যাকেট ঝালমুড়ি বিক্রির পাশাপাশি রসগোল্লা, সন্দেশ ও কালাকাঁদের মতো ঐতিহ্যবাহী মিষ্টির সমারোহ ছিল চোখে পড়ার মতো। এমনকি পদ্ম চিহ্ন ও গেরুয়া রঙের বিশেষ মিষ্টির মাধ্যমে রাজনৈতিক বার্তাকে সাংস্কৃতিক মোড়কে পরিবেশন করা হয়।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, ২০১৮ সাল থেকে বিজেপি ধারাবাহিকভাবে বাঙালির আবেগ ও প্রতীকের সঙ্গে সংযোগ তৈরির চেষ্টা করছে। ‘বহিরাগত’ তকমা ঝেড়ে ফেলে গ্রহণযোগ্যতা বাড়াতে শনিবারের এই আয়োজন ছিল এক বড় প্রদর্শনী। শপথের এই রাজনৈতিক মঞ্চ শেষ পর্যন্ত মানুষের মনে কতটা জায়গা করে নেবে, তা আগামী দিনের রাজনীতিই বলে দেবে।
ব্রিগেডে নতুন সরকারের শপথগ্রহণে দেখা গেল বিজেপির বাঙালিয়ানা। লোকজ সংস্কৃতি, ঐতিহ্যবাহী খাবার ও মণীষীদের স্মরণে সাজানো ছিল পুরো আয়োজন। রাজনৈতিক বার্তার সঙ্গে সংস্কৃতির এই মেলবন্ধন নজর কেড়েছে সবার।

0 Comments