নতুন সরকার দায়িত্ব গ্রহণের পর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনে বড় ধরনের রদবদল শুরু হয়েছে। উপাচার্য থেকে শুরু করে উপ-উপাচার্য, প্রক্টর এবং সহকারী প্রক্টরের মতো গুরুত্বপূর্ণ প্রশাসনিক পদগুলোতে ব্যাপক পরিবর্তন দৃশ্যমান হয়েছে। গত ২২ ফেব্রুয়ারি উপাচার্য অধ্যাপক ড. নিয়াজ আহমেদ খানের পদত্যাগের পর নতুন উপাচার্য হিসেবে নিয়োগ পেয়েছেন অধ্যাপক ড. এবিএম ওবায়দুল ইসলাম। এর আগে অধ্যাপক নিয়াজ আহমেদ খান ব্যক্তিগত কারণে পদত্যাগের ইচ্ছা প্রকাশ করেছিলেন।
প্রশাসনিক পরিবর্তনের ধারাবাহিকতায় উপ-উপাচার্য (প্রশাসন) অধ্যাপক ড. সায়মা হক বিদিশাকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে। তার স্থলাভিষিক্ত হয়েছেন উদ্ভিদবিদ্যা বিভাগের অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ আলমোজাদ্দেদী আলফেছানী। এদিকে ব্যক্তিগত কারণ দেখিয়ে প্রক্টর পদ থেকে পদত্যাগ করেছেন অধ্যাপক সাইফুদ্দীন আহমেদ। তার স্থলে চারুকলা অনুষদের সহযোগী অধ্যাপক মো. ইসরাফিল প্রাংকে ভারপ্রাপ্ত প্রক্টর হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। প্রক্টরের পদত্যাগের পরদিনই সহকারী প্রক্টর শেহরিন আমিন মোনামীও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পোস্ট দিয়ে পদত্যাগের ঘোষণা দেন।
বিশ্ববিদ্যালয়ের শীর্ষ পদের পাশাপাশি রেজিস্ট্রার ভবনসহ প্রশাসনের বিভিন্ন স্তরেও রদবদল চলছে। বর্তমান ভারপ্রাপ্ত রেজিস্ট্রারকে সরিয়ে নতুন নিয়োগের আলোচনা চলছে বলে প্রশাসনিক সূত্রে জানা গেছে। তবে প্রশাসনের এই ধারাবাহিক পরিবর্তনের ফলে একচেটিয়া রাজনৈতিক মেরূকরণের আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন সংশ্লিষ্টদের একাংশ। তাদের দাবি, নির্দিষ্ট একটি রাজনৈতিক ধারার ব্যক্তিদের গুরুত্বপূর্ণ পদে আসীন করার ফলে নীতিনির্ধারণী প্রক্রিয়ায় ভারসাম্য নষ্ট হতে পারে।
অবশ্য এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। নতুন উপাচার্য অধ্যাপক ড. এবিএম ওবায়দুল ইসলাম জানিয়েছেন, প্রশাসনিক কার্যক্রম সুষ্ঠুভাবে পরিচালনার স্বার্থে দলীয় পরিচয়ের চেয়ে দক্ষতা ও জ্যেষ্ঠতাকে গুরুত্ব দিয়ে এই নিয়োগগুলো দেওয়া হচ্ছে। উপ-উপাচার্য অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ আলমোজাদ্দেদী আলফেছানীও দাবি করেছেন যে, পদত্যাগগুলো স্বেচ্ছায় হয়েছে এবং কাউকে কোনো চাপ দেওয়া হয়নি।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনে বড় ধরনের রদবদল শুরু হয়েছে। উপাচার্য, উপ-উপাচার্য ও প্রক্টরসহ গুরুত্বপূর্ণ পদগুলোতে এসেছে নতুন মুখ। প্রশাসনিক এই পুনর্গঠন ও ধারাবাহিক পদত্যাগ নিয়ে শুরু হয়েছে নানা আলোচনা।

0 Comments