ওয়াকফ সম্পত্তি আর লুটপাট করে খাওয়া যাবে না বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন ধর্মমন্ত্রী কাজী শাহ মোফাজ্জাল হোসাইন কায়কোবাদ। একইসঙ্গে ওয়াকফ সম্পত্তির আয়-ব্যয়ের স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে সরকার কঠোর অবস্থানে যাচ্ছে বলেও জানান তিনি। বৃহস্পতিবার দুপুরে গণমাধ্যমকর্মীদের সঙ্গে আলাপকালে ধর্মমন্ত্রী এসব কথা বলেন।
মন্ত্রী জানান, দেশে বর্তমানে প্রায় ৬ লাখ ১৪ হাজার ৫১৭ একর ওয়াকফ সম্পত্তি রয়েছে। এর মধ্যে ওয়াকফে আওলাদ শ্রেণির সম্পত্তি প্রায় ২ লাখ ১২ হাজার ৯৯ একর এবং ওয়াকফে লিল্লাহ শ্রেণির সম্পত্তি প্রায় ৩ লাখ ৭৭ হাজার ১২০ একর। দীর্ঘদিন ধরে অব্যবস্থাপনা, দুর্নীতি ও প্রশাসনিক দুর্বলতার কারণে এই বিপুল পরিমাণ সম্পত্তির বড় অংশই বেহাল অবস্থায় রয়েছে। বিশেষ করে গত ১৭ বছরে সঠিক ব্যবস্থাপনার অভাবে ওয়াকফ সম্পত্তির অবস্থা শোচনীয় হয়ে পড়েছে।
কাজী শাহ মোফাজ্জাল হোসাইন বলেন, সরকার চায় ওয়াকিফরা যে উদ্দেশ্যে সম্পত্তি দান করে গেছেন, সেই লক্ষ্য যেন যথাযথভাবে বাস্তবায়িত হয়। ওয়াকফ সম্পত্তি থেকে অর্জিত আয়ও যেন নির্ধারিত জনকল্যাণমূলক খাতেই ব্যয় হয়। এক্ষেত্রে দুর্নীতি, চুরি বা অন্যায়ের কোনো সুযোগ থাকবে না।
ভাড়া বৈষম্যের উদাহরণ তুলে ধরে তিনি বলেন, রাজধানীর গাউসিয়া মার্কেটের ৫৮৮টি দোকানের মাসিক ভাড়া এখনো বাজারদরের তুলনায় অত্যন্ত কম। অন্যদিকে, চকবাজার মসজিদ ওয়াকফের একটি দোকানের ভাড়া পুনর্নির্ধারণের ফলে আয় ৩৫ হাজার টাকা থেকে বেড়ে ২ লাখ ৫২ হাজার টাকা হয়েছে। এতে স্পষ্ট যে, দীর্ঘদিন ধরে অনেক সম্পত্তি প্রকৃত বাজারমূল্যের চেয়ে অস্বাভাবিক কম ভাড়ায় ব্যবহৃত হচ্ছে।
ধর্মমন্ত্রী আরও জানান, প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা অনুযায়ী এখন থেকে সব ওয়াকফ সম্পত্তির ভাড়া বর্তমান বাজারদরের সঙ্গে সমন্বয় করা হবে। কোনো ধরনের লুটপাট বা অনিয়ম বরদাশত করা হবে না। ইতোমধ্যে প্রশাসকদের ভাড়া পুনর্নির্ধারণের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে এবং আগামী তিন মাসের মধ্যেই এর ইতিবাচক ফলাফল দেখা যাবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
ওয়াকফ সম্পত্তি রক্ষায় কঠোর হচ্ছে সরকার। লুটপাট বন্ধে ও ভাড়া বাজারদরের সঙ্গে সমন্বয়ে ধর্মমন্ত্রীর হুঁশিয়ারি। অব্যবস্থাপনা দূর করে স্বচ্ছতা ফেরাতে নেওয়া হচ্ছে বিশেষ পদক্ষেপ।

0 Comments