সুনামগঞ্জে অতিবৃষ্টি ও পাহাড়ি ঢলে হাওরের বোরো ফসল তলিয়ে যাওয়ায় চরম সংকটে পড়েছেন প্রান্তিক ও বর্গা চাষিরা। ধারদেনা করে আবাদ করা ফসল ঘরে তুলতে না পেরে দিশাহারা হয়ে পড়েছেন হাজার হাজার কৃষক পরিবার। বিশেষ করে জেলার শান্তিগঞ্জ ও সদর উপজেলার হাওরপারের কৃষকদের মধ্যে হাহাকার বিরাজ করছে।
কৃষি বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, জেলায় কার্ডধারী ৩ লাখ ৬৫ হাজার ৭৭৭ জন কৃষকের মধ্যে ২ লাখ ২৩ হাজারের বেশি ক্ষুদ্র ও প্রান্তিক কৃষক। বর্গা চাষিরা জানান, জমি আবাদ থেকে শুরু করে ধান কাটা পর্যন্ত সব খরচ তাদেরই বহন করতে হয়। ফসল নষ্ট হলেও জমির মালিককে নির্দিষ্ট পরিমাণ টাকা বা ধান দিতে হয়, ফলে সব ক্ষতি গিয়ে পড়ে কৃষকের ওপর। শান্তিগঞ্জের আস্তমা গ্রামের বর্গা চাষি আল আমিন জানান, তার ছয় বিঘা জমির মধ্যে চার বিঘাই তলিয়ে গেছে। এখন দেনা শোধ আর পরিবারের খোরাকি নিয়ে তিনি দুশ্চিন্তায় আছেন।
এদিকে, গত দুদিন রোদ থাকায় কৃষকরা কিছুটা স্বস্তিতে ধান কাটার কাজ চালিয়েছেন। তবে পানি উন্নয়ন বোর্ড জানিয়েছে, আগামী কয়েক দিনে আবারও ভারী বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। অন্যদিকে, কৃষি বিভাগের দেওয়া ক্ষয়ক্ষতির হিসাব নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরা। সরকারি হিসাবে ১৬ হাজার ৩৯৫ হেক্টর জমির ফসল ক্ষতির কথা বলা হলেও সংসদ সদস্যরা দাবি করেছেন, প্রকৃত ক্ষতির পরিমাণ আরও অনেক বেশি। পরিস্থিতি মোকাবিলায় সরকারের ত্রাণ ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা মন্ত্রণালয় এবং কৃষি মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে তদারকি বাড়ানো হয়েছে।
সুনামগঞ্জে অতিবৃষ্টি ও পাহাড়ি ঢলে হাওরের বোরো ফসল তলিয়ে যাওয়ায় দিশাহারা হয়ে পড়েছেন প্রান্তিক ও বর্গা চাষিরা। ধারদেনা শোধ আর পরিবারের ভরণপোষণ নিয়ে চরম অনিশ্চয়তায় দিন কাটছে হাজারো কৃষক পরিবারের।

0 Comments