বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব পিস অ্যান্ড সিকিউরিটি স্টাডিজের (বিআইপিএসএস) প্রেসিডেন্ট মেজর জেনারেল (অব.) আ ন ম মুনিরুজ্জামান বলেছেন, বাংলাদেশের পররাষ্ট্রনীতি বাস্তবধর্মী, ভারসাম্যপূর্ণ ও উন্নয়নমুখী হতে হবে। বর্তমান বৈশ্বিক ভূরাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বিতা, অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তা ও জলবায়ু সংকটের প্রেক্ষাপটে নতুন সরকারের পররাষ্ট্রনীতিতে জাতীয় স্বার্থ ও কৌশলগত পরিকল্পনাকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেওয়া প্রয়োজন।
শনিবার রাজধানীর গুলশানের একটি হোটেলে ‘বাংলাদেশ ফার্স্ট: এ ফরেন পলিসি আউটলুক ফর এ নিউ বাংলাদেশ’ শীর্ষক এক নীতি আলোচনায় উদ্বোধনী বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। অনুষ্ঠানে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন প্রধানমন্ত্রীর পররাষ্ট্রবিষয়ক উপদেষ্টা হুমায়ুন কবির।
আ ন ম মুনিরুজ্জামান বলেন, স্বল্পোন্নত দেশের তালিকা থেকে বাংলাদেশের উত্তরণের এই সময়ে অর্থনৈতিক কূটনীতিকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিতে হবে। একই সঙ্গে বিশ্বের প্রধান শক্তিগুলোর সঙ্গে গঠনমূলক সম্পর্ক ও কৌশলগত ভারসাম্য বজায় রাখা জরুরি। তিনি দক্ষিণ এশিয়ায় আঞ্চলিক সহযোগিতা জোরদার এবং স্থবির হয়ে পড়া আঞ্চলিক সংগঠনগুলোকে পুনরুজ্জীবিত করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
রোহিঙ্গা সংকটকে সরকারের অন্যতম প্রধান অগ্রাধিকার উল্লেখ করে এই নিরাপত্তা বিশ্লেষক বলেন, রোহিঙ্গাদের নিরাপত্তা ও মর্যাদা নিশ্চিত করে নিজ দেশে প্রত্যাবাসনে সরকারকে কঠোর ও উদ্ভাবনী কৌশল নিয়ে কাজ করতে হবে। এছাড়া জলবায়ু পরিবর্তনের ঝুঁকি মোকাবিলায় আন্তর্জাতিক অঙ্গনে সক্রিয় ভূমিকা এবং বঙ্গোপসাগরকেন্দ্রিক সামুদ্রিক নিরাপত্তাকে কৌশলগত স্বার্থের অংশ হিসেবে দেখার আহ্বান জানান তিনি।
কার্যকর নেতৃত্ব ও সুপরিকল্পিত কূটনীতির মাধ্যমে পররাষ্ট্রনীতিকে জাতীয় সমৃদ্ধি ও বৈশ্বিক মর্যাদা অর্জনের হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহারের ওপর জোর দেন বিআইপিএসএস প্রেসিডেন্ট। অনুষ্ঠানে বিভিন্ন দেশের কূটনীতিক ও নাগরিক সমাজের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।
নতুন বাংলাদেশের পররাষ্ট্রনীতিতে জাতীয় স্বার্থ ও ভারসাম্যপূর্ণ সম্পর্ককে গুরুত্ব দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন বিআইপিএসএস প্রেসিডেন্ট। অর্থনৈতিক কূটনীতি ও রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনেও জোর দেন তিনি।

0 Comments