দেশে হামের সংক্রমণ ও মৃত্যু আশঙ্কাজনক হারে বাড়ছে। গত ১৫ মার্চ থেকে এ পর্যন্ত সরকারি হিসেবে হাম ও এর উপসর্গে ৪০৯ শিশুর মৃত্যু হয়েছে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হেলথ ইমার্জেন্সি অপারেশন সেন্টার ও কন্ট্রোল রুমের তথ্য অনুযায়ী, গত ২৪ ঘণ্টায় হাম ও হামের উপসর্গে আরও ১১ শিশুর মৃত্যু হয়েছে। এর মধ্যে ৪ জন নিশ্চিত হামে এবং ৭ জন উপসর্গ নিয়ে মারা গেছে।
গত ২৪ ঘণ্টায় সারা দেশে নতুন করে ১ হাজার ৭০৮ জন শিশু হাম ও হামের উপসর্গে আক্রান্ত হয়েছে। এর মধ্যে নিশ্চিত হাম শনাক্ত হয়েছে ২০৫ জনের শরীরে। মৃত ১১ শিশুর মধ্যে ঢাকা ও বরিশালে নিশ্চিত হামে ৪ জন এবং ঢাকা, চট্টগ্রাম ও সিলেটে উপসর্গ নিয়ে ৭ জন মারা গেছে। চলতি বছরের ১৫ মার্চ থেকে এ পর্যন্ত হামের উপসর্গ নিয়ে আক্রান্ত হয়েছে ৪৯ হাজার ১৫৯ জন এবং নিশ্চিত হাম শনাক্ত হয়েছে ৬ হাজার ৮১৯ জনের। আক্রান্তদের মধ্যে এ পর্যন্ত ৩৪ হাজার ৯০৯ জন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে এবং সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছে ৩০ হাজার ৮৬২ জন।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, করোনা মহামারির কারণে টিকাদান কর্মসূচিতে বিঘ্ন ঘটায় শিশুদের মধ্যে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতার ঘাটতি বা ইমিউনিটি গ্যাপ তৈরি হয়েছে, যা এই সংক্রমণের অন্যতম কারণ। এছাড়া শিশুকে বুকের দুধ না খাওয়ানো, পুষ্টিহীনতা এবং ভিটামিন এ ক্যাম্পেইন না হওয়াকেও দায়ী করছেন তারা। বাংলাদেশ শিশু হাসপাতাল ও ইনস্টিটিউটের অধ্যাপক ডা. মির্জা জিয়াউল ইসলাম জানান, হামে আক্রান্ত শিশুর মৃত্যুর প্রধান কারণ নিউমোনিয়া। আইইডিসিআরের প্রধান উপদেষ্টা ডা. মুশতাক হোসেন জানান, এই প্রাদুর্ভাব আরও এক থেকে দুই মাস স্থায়ী হতে পারে।
এদিকে সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণে সরকার জরুরি টিকাদান কর্মসূচি জোরদার করেছে। এখন পর্যন্ত লক্ষ্যমাত্রার প্রায় ৯৬ শতাংশ অর্থাৎ ১ কোটি ৭২ লাখ ৬৮ হাজার ৯০৮ জন শিশুকে হাম-রুবেলার টিকা দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে ঢাকা বিভাগে সর্বোচ্চ ৪৩ লাখের বেশি এবং চট্টগ্রামে প্রায় ৪০ লাখ শিশু টিকা পেয়েছে।
দেশে হামের সংক্রমণ ও মৃত্যু বাড়ছে। গত ১৫ মার্চ থেকে এ পর্যন্ত ৪০৯ শিশুর মৃত্যু হয়েছে, যার মধ্যে গত ২৪ ঘণ্টায় প্রাণ হারিয়েছে ১১ জন। সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণে সরকার ১ কোটি ৭২ লাখ শিশুকে টিকা দিয়েছে।

0 Comments