Recents in Beach

ব্রেকিং নিউজ

ভ্রূণের লিঙ্গ নির্ধারণ ও প্রকাশ বন্ধে হাইকোর্টের পূর্ণাঙ্গ রায় প্রকাশ এবং ডিজিটাল ডাটাবেজ তৈরির নির্দেশ

ভ্রূণের লিঙ্গ নির্ধারণ ও প্রকাশ বন্ধে হাইকোর্টের পূর্ণাঙ্গ রায় প্রকাশ এবং ডিজিটাল ডাটাবেজ তৈরির নির্দেশ

অনাগত শিশুর লিঙ্গ নির্ধারণ ও তা প্রকাশের অনৈতিক চর্চা বন্ধে হাইকোর্টের দেওয়া রায়ের পূর্ণাঙ্গ অনুলিপি প্রকাশিত হয়েছে। বিচারপতি নাইমা হায়দার ও বিচারপতি কাজী জিনাত হকের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চের দেওয়া এই রায়ে ভ্রূণের লিঙ্গ প্রকাশকে নারীর প্রতি বৈষম্য এবং সাংবিধানিক অধিকারের পরিপন্থি হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।

আদালত পর্যবেক্ষণে জানিয়েছেন, ভ্রূণের লিঙ্গ নির্ধারণ ও প্রকাশ কন্যাশিশু হত্যার প্রবণতা বৃদ্ধি করে এবং সামাজিক ভারসাম্য নষ্ট করে। এটি নারীর মর্যাদা, সমতা ও জীবনের অধিকারের পরিপন্থি এবং আন্তর্জাতিক মানবাধিকারের লঙ্ঘন। রায়ে বলা হয়েছে, ভ্রূণের লিঙ্গ নির্ধারণের মাধ্যমে কন্যাশিশুর বিরুদ্ধে বৈষম্য ও নারী ভ্রূণ হত্যার ঝুঁকি তৈরি হয়, যা সংবিধানের ১৮, ২৭, ২৮, ৩১ ও ৩২ অনুচ্ছেদের সঙ্গে সাংঘর্ষিক। শুধু গাইডলাইন নয়, বরং কার্যকর নিয়ন্ত্রণ ও ডিজিটাল নজরদারি ছাড়া এই অনৈতিক কার্যক্রম বন্ধ করা সম্ভব নয়।

নির্দেশনায় হাইকোর্ট স্বাস্থ্য অধিদপ্তরকে আগামী ৬ মাসের মধ্যে একটি কেন্দ্রীয় ডিজিটাল ডাটাবেজ তৈরির নির্দেশ দিয়েছেন। নিবন্ধিত হাসপাতাল, ক্লিনিক ও ডায়াগনস্টিক সেন্টারের রিপোর্ট তদারকির জন্য এই ব্যবস্থা কার্যকর করতে হবে। আদালত এই নির্দেশনাকে “continuous mandamus” হিসেবে ঘোষণা করেছেন, যাতে ভবিষ্যতে এর বাস্তবায়ন তদারকি করা যায়।

উল্লেখ্য, ২০২০ সালের ২৬ জানুয়ারি সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী ইশরাত হাসান গর্ভের শিশুর লিঙ্গ পরিচয় প্রকাশ বন্ধে এই রিট আবেদনটি দায়ের করেছিলেন। আদালতে রিটের পক্ষে ছিলেন আইনজীবী ইশরাত হাসান ও তানজিলা রহমান। রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল অমিত দাশ গুপ্ত।

সংক্ষেপে:
ভ্রূণের লিঙ্গ নির্ধারণ ও প্রকাশ বন্ধে হাইকোর্টের পূর্ণাঙ্গ রায় প্রকাশিত হয়েছে। আদালত এটিকে নারীর প্রতি বৈষম্য ও অসাংবিধানিক বলে উল্লেখ করেছেন। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরকে ৬ মাসের মধ্যে কেন্দ্রীয় ডিজিটাল ডাটাবেজ তৈরির নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

Post a Comment

0 Comments