ওমান উপসাগরে একটি তেলের ট্যাংকার জব্দ করেছে ইরানের ইসলামি বিপ্লবী গার্ড কোর (আইআরজিসি)। একই সময়ে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনী দাবি করেছে, তারা ইরানি পতাকাবাহী দুটি ট্যাংকার অচল করে দিয়েছে। শুক্রবার উভয় পক্ষ থেকেই এই পাল্টাপাল্টি পদক্ষেপের তথ্য জানানো হয়। এর কয়েক ঘণ্টা আগে হরমুজ প্রণালিতে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের বাহিনীর মধ্যে ব্যাপক গোলাগুলির ঘটনা ঘটে, যা চলমান যুদ্ধবিরতি ও শান্তি আলোচনার ভবিষ্যৎ নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি করেছে।
ইরানের আধা সরকারি সংবাদমাধ্যম ফারস নিউজ এজেন্সি জানিয়েছে, ওমান উপসাগরে পরিচালিত অভিযানে ‘ওশান কোই’ নামের একটি ট্যাংকার জব্দ করা হয়েছে। তেহরানের দাবি, জাহাজটি ইরানের তেল রপ্তানি ও জাতীয় স্বার্থে বাধা সৃষ্টি করছিল। বর্তমানে বার্বাডোজে নিবন্ধিত ওই ট্যাংকারটি ইরানি নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। অন্যদিকে, যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল কমান্ড দাবি করেছে, নৌ অবরোধ কার্যকর রাখতে তারা ইরানি বন্দরে প্রবেশের চেষ্টাকালে দুটি ট্যাংকার অচল করেছে।
এই সংঘর্ষের ঘটনায় ইরানের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের হামলায় অন্তত ১০ জন ইরানি নাবিক আহত এবং পাঁচজন নিখোঁজ হয়েছেন। এছাড়া কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ কেশম দ্বীপের বেসামরিক এলাকায় বিমান হামলার অভিযোগও করেছে ইরান। পাল্টা প্রতিক্রিয়ায় ইরানও মার্কিন সামরিক জাহাজ লক্ষ্য করে হামলা চালিয়েছে বলে দাবি করেছে। তবে যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এই সংঘর্ষকে সামান্য গোলাগুলি হিসেবে অভিহিত করেছেন।
উত্তেজনা প্রশমনে কূটনৈতিক তৎপরতাও জোরদার হয়েছে। মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও জানিয়েছেন, তারা তেহরানের আনুষ্ঠানিক জবাবের অপেক্ষায় রয়েছেন। কাতার ও পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় শান্তি আলোচনার বিষয়ে ওয়াশিংটনে কাতারের প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠক করেছেন মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স। এদিকে, হরমুজ প্রণালি ও পারস্য উপসাগর ঘিরে নতুন নৌ-নীতি চালুর পরিকল্পনা করছে তেহরান। পার্সিয়ান গালফ স্ট্রেইট অথরিটি নামে একটি নতুন কর্তৃপক্ষ গঠনের মাধ্যমে এই গুরুত্বপূর্ণ নৌপথে নিজেদের নিয়ন্ত্রণ আরও শক্ত করতে চাইছে ইরান।
ওমান উপসাগরে তেলের ট্যাংকার জব্দ করেছে ইরান। অন্যদিকে দুটি ইরানি ট্যাংকার অচল করার দাবি করেছে যুক্তরাষ্ট্র। হরমুজ প্রণালিতে দুই বাহিনীর সংঘর্ষে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়েছে এবং কূটনৈতিক তৎপরতা চলছে।

0 Comments