ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যকার সংঘাতের দুই মাস পেরিয়ে গেলেও এখন পর্যন্ত কোনো চূড়ান্ত সামরিক বা কূটনৈতিক জয় পাননি মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। এই দীর্ঘমেয়াদি অচলাবস্থার ফলে তিনি বর্তমানে এক অনিশ্চিত পরিস্থিতির মুখোমুখি হয়েছেন, যা যুক্তরাষ্ট্রসহ বিশ্বের সামনে বড় ধরনের সংকট তৈরি করতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
সংঘাত শুরুর সময় ট্রাম্পের ঘোষিত লক্ষ্যগুলোর মধ্যে ছিল ইরানের সরকার পরিবর্তন এবং দেশটির পারমাণবিক অস্ত্র তৈরির পথ চিরতরে বন্ধ করা। তবে দুই মাস পর দেখা যাচ্ছে, এসব লক্ষ্য এখনো অপূর্ণ রয়ে গেছে। যদিও মার্কিন ও ইসরায়েলি হামলায় ইরানের সামরিক সক্ষমতা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, কিন্তু তেহরান তাদের অবস্থানে অনমনীয় রয়েছে। বিশেষ করে হরমুজ প্রণালি বন্ধ করে দিয়ে ইরান বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের সংকট সৃষ্টি করেছে, যার প্রভাব সরাসরি যুক্তরাষ্ট্রের অভ্যন্তরীণ অর্থনীতিতে পড়ছে।
বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রে তেলের দাম চড়া থাকায় ট্রাম্পের জনপ্রিয়তা কমে ৩৪ শতাংশে নেমেছে। এটি আসন্ন কংগ্রেসের মধ্যবর্তী নির্বাচনে রিপাবলিকান প্রার্থীদের জন্য বড় ঝুঁকি হয়ে দাঁড়িয়েছে। এদিকে ইরান আলোচনার প্রস্তাব দিলেও ট্রাম্প তা প্রত্যাখ্যান করেছেন। হোয়াইট হাউস দাবি করছে যে ট্রাম্পের হাতেই সব নিয়ন্ত্রণ রয়েছে, তবে বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন এই সংঘাত একটি দীর্ঘমেয়াদি স্থবিরতায় রূপ নিতে পারে।
ইউরোপীয় মিত্রদের সঙ্গেও এই যুদ্ধ নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের সম্পর্কের টানাপোড়েন সৃষ্টি হয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, ইরান নতি স্বীকার না করে বরং সময়ক্ষেপণ করছে। সব মিলিয়ে কোনো সুনির্দিষ্ট সমাধান না আসায় মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন কৌশল ও ট্রাম্পের রাজনৈতিক উত্তরাধিকার বড় ধরনের চ্যালেঞ্জের মুখে পড়েছে।
ইরান সংঘাতের দুই মাস পার হলেও মেলেনি কাঙ্ক্ষিত জয়। লক্ষ্য অর্জনে ব্যর্থ হয়ে চরম রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক ঝুঁকির মুখে ডোনাল্ড ট্রাম্প। দীর্ঘমেয়াদি অচলাবস্থায় বিশ্বজুড়ে বাড়ছে অস্থিরতা ও জ্বালানি সংকট।

0 Comments