চরম রাজনৈতিক অস্থিরতার মধ্যে ব্রিটেনের প্রধানমন্ত্রীর পদ থেকে পদত্যাগের প্রস্তুতি নিচ্ছেন কিয়ার স্টারমার। ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম ডেইলি মেইলের এক প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, তিনি ইতোমধ্যে তার ঘনিষ্ঠ সহযোগীদের কাছে এই সিদ্ধান্তের কথা জানিয়েছেন। তবে তিনি নিজের শর্তে এবং মর্যাদার সঙ্গে বিদায় নিতে চান। শিগগিরই পদত্যাগের বিষয়ে সুনির্দিষ্ট সময়সূচি ঘোষণা করবেন তিনি।
লেবার পার্টির এই সরকারের ওপর সাধারণ মানুষের অসন্তোষ বর্তমানে চরমে। পিটার মেন্ডেলসনকে নিয়োগ নিয়ে বিতর্ক এবং স্থানীয় নির্বাচনে লেবার পার্টির ভরাডুবিসহ নানা কারণে স্টারমার প্রশাসন গভীর সংকটে রয়েছে। বিশেষ করে স্টারমার মন্ত্রিসভার সাবেক স্বাস্থ্যমন্ত্রী ওয়েস স্ট্রিটিংয়ের পদত্যাগ এবং স্টারমারকে চ্যালেঞ্জ জানানোর ঘোষণা বড় ধাক্কা হিসেবে দেখা হচ্ছে। স্ট্রিটিং ব্রিটেনের পরবর্তী প্রধানমন্ত্রী হওয়ার দৌড়ে নিজেকে শামিল করার ইঙ্গিত দিয়েছেন।
সাম্প্রতিক এক জরিপ অনুযায়ী, স্টারমার বর্তমানে যুক্তরাজ্যের ইতিহাসের সবচেয়ে অজনপ্রিয় প্রধানমন্ত্রী হিসেবে চিহ্নিত হয়েছেন। প্রায় ৬৯ শতাংশ ব্রিটিশ নাগরিক তার প্রতি নেতিবাচক মনোভাব পোষণ করছেন। অনেকেই তার এই পরিস্থিতির সঙ্গে লিজ ট্রাসের সংক্ষিপ্ত প্রধানমন্ত্রিত্বের তুলনা করছেন। দলের ভেতরেও তার নেতৃত্বের ওপর আস্থা কমছে, যা ভবিষ্যতে লেবার পার্টির ক্ষমতায় ফেরার পথ কঠিন করে তুলতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
চরম রাজনৈতিক অস্থিরতা ও জনপ্রিয়তায় রেকর্ড ধসের মুখে পদত্যাগের প্রস্তুতি নিচ্ছেন ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমার। নিজের শর্তে ও মর্যাদার সঙ্গে বিদায় নিতে শিগগিরই সময়সূচি ঘোষণা করবেন তিনি।

0 Comments