সংবিধানের পঞ্চদশ সংশোধনীর মাধ্যমে বিভিন্ন পরিবর্তনের সমালোচনা করে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ একে 'আইনি প্রতারণা' হিসেবে অভিহিত করেছেন। আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে আনা এই সংশোধনীর ৫৪টি পরিবর্তনের মধ্যে ৫ আগস্টের পরবর্তী সময়ে হাইকোর্ট ৬টি বিধান বাতিল করেছে। বাকি বিষয়গুলো বর্তমান সংসদের সিদ্ধান্তের ওপর ছেড়ে দেওয়া হয়েছে।
হাইকোর্টের সাম্প্রতিক রায়ের ফলে সংবিধানে তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা ও গণভোটের বিধান পুনরায় ফিরে এসেছে। ২০১১ সালে সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগ এই ব্যবস্থাকে অবৈধ ঘোষণা করলেও, ২০২৫ সালের ২০ নভেম্বর এক রায়ে আগের সিদ্ধান্তকে ত্রুটিপূর্ণ বলে অভিহিত করা হয়। এর ফলে তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা স্বয়ংক্রিয়ভাবে সংবিধানে পুনরুজ্জীবিত হয়েছে।
সংশোধনীতে ধর্মনিরপেক্ষতা ও রাষ্ট্রধর্ম ইসলামের সহাবস্থানকে একটি 'গোঁজামিল' হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, রাষ্ট্রের কোনো নির্দিষ্ট ধর্ম থাকা গণতন্ত্রের সঙ্গে সাংঘর্ষিক। এছাড়া অসংবিধানিকভাবে ক্ষমতা দখলের জন্য মৃত্যুদণ্ড বা যাবজ্জীবনের বিধান রাখা হলেও বাস্তবে তা কার্যকর হতে দেখা যায়নি। পঞ্চদশ সংশোধনীর মাধ্যমে সংসদে সংরক্ষিত নারী আসন ৪৫ থেকে ৫০-এ উন্নীত করা হয়েছিল, যা বর্তমানেও বহাল রয়েছে। রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের সাথে সাথে সংবিধানের এই ধারাবাহিক পরিবর্তন দেশের আইনি কাঠামোকে জটিল করে তুলছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
সংবিধানের পঞ্চদশ সংশোধনীর ৫৪টি পরিবর্তনের মধ্যে ৬টি বাতিল করেছে হাইকোর্ট। তত্ত্বাবধায়ক সরকার ও গণভোট ব্যবস্থা পুনর্বহালসহ সংবিধানের নানা অসঙ্গতি ও আইনি জটিলতা নিয়ে চলছে নতুন বিশ্লেষণ।

0 Comments