সরকারি চাকরিজীবীদের দীর্ঘদিনের প্রত্যাশিত নবম জাতীয় বেতন কাঠামো আগামী ১ জুলাই থেকে কার্যকর করার নীতিগত সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান এ বিষয়ে চূড়ান্ত অনুমোদন দিয়েছেন বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে। নতুন এই পে-স্কেল বাস্তবায়নে সরকারের অতিরিক্ত প্রায় ১ লাখ ৬ হাজার কোটি টাকার প্রয়োজন হবে। বিশাল অঙ্কের এই ব্যয় ও সম্ভাব্য মূল্যস্ফীতির চাপ সামাল দিতে সরকার তিন ধাপে নতুন বেতন কাঠামো বাস্তবায়নের পরিকল্পনা নিয়েছে। এর মধ্যে প্রথম ধাপে বর্ধিত মূল বেতনের ৫০ শতাংশ কার্যকর করা হবে। এ লক্ষ্যে আসন্ন বাজেটে ৩০ হাজার কোটি টাকার বেশি বরাদ্দ রাখার প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। সম্প্রতি সচিবালয়ে অনুষ্ঠিত এক উচ্চপর্যায়ের বৈঠকে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী নতুন পে-স্কেলের রূপরেখা প্রধানমন্ত্রীর সামনে উপস্থাপন করলে তিনি এতে সম্মতি দেন। উক্ত বৈঠকে এনবিআর চেয়ারম্যান মো. আবদুর রহমান খান, বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর মো. মোস্তাকুর রহমান এবং অর্থ সচিব মো. খায়েরুজ্জামান মজুমদারসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। পরিকল্পনা অনুযায়ী, দ্বিতীয় ধাপে বাকি ৫০ শতাংশ এবং তৃতীয় ধাপে বিভিন্ন ভাতা ও আনুষঙ্গিক আর্থিক সুবিধাগুলো পুরোপুরি সমন্বয় করা হবে। সরকারের ধারণা, তিন বছরে ধাপে ধাপে এটি বাস্তবায়ন করলে বাজারে মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে থাকবে। এর আগে সাবেক অর্থ সচিব জাকির আহমেদ খানের নেতৃত্বাধীন বেতন কমিশন গত ২১ জানুয়ারি তৎকালীন প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসের কাছে চূড়ান্ত প্রতিবেদন জমা দিয়েছিল। নতুন কাঠামোতে সরকারি চাকরির ২০টি গ্রেড বহাল থাকলেও সর্বনিম্ন মূল বেতন ৮ হাজার ২৫০ টাকা থেকে বাড়িয়ে ২০ হাজার টাকা এবং সর্বোচ্চ মূল বেতন ৭৮ হাজার টাকা থেকে বাড়িয়ে ১ লাখ ৬০ হাজার টাকা করার সুপারিশ করা হয়েছে। এতে গ্রেডভেদে বেতন ১০০ থেকে ১৪০ শতাংশ পর্যন্ত বাড়তে পারে। বর্তমানে প্রায় ১৪ লাখ সরকারি কর্মচারী ও ৯ লাখ পেনশনভোগীর বেতন-ভাতায় সরকারের বার্ষিক ব্যয় হয় প্রায় ১ লাখ ৩১ হাজার কোটি টাকা।
সরকারি চাকরিজীবীদের জন্য সুখবর। ১ জুলাই থেকে তিন ধাপে কার্যকর হচ্ছে নবম জাতীয় বেতন কাঠামো। প্রথম ধাপে বাড়ছে মূল বেতনের ৫০ শতাংশ। মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে রেখে বেতন বাড়ানোর চূড়ান্ত অনুমোদন দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী।

0 Comments