Recents in Beach

ব্রেকিং নিউজ

চট্টগ্রামে পাঁচ বছরে ফেলন ডালের উৎপাদন কমেছে ২৫ শতাংশ দুশ্চিন্তায় কৃষক ও কৃষি কর্মকর্তারা

চট্টগ্রামে পাঁচ বছরে ফেলন ডালের উৎপাদন কমেছে ২৫ শতাংশ দুশ্চিন্তায় কৃষক ও কৃষি কর্মকর্তারা

চট্টগ্রাম জেলায় আশঙ্কাজনক হারে কমছে ফেলন ডালের উৎপাদন। গত পাঁচ বছরের ব্যবধানে এই ডালের উৎপাদন প্রায় ২৫ শতাংশ হ্রাস পেয়েছে। কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, ২০২১-২২ অর্থবছরে চট্টগ্রামে ফেলন ডালের উৎপাদন ছিল ১৬ হাজার ৮৪৯ টন, যা ২০২৫-২৬ অর্থবছরে ১২ হাজার ৬৪২ টনে নেমে এসেছে। অর্থাৎ পাঁচ বছরে উৎপাদন কমেছে ৪ হাজার ২০৭ টন।

চন্দনাইশ, আনোয়ারা, কর্ণফুলী ও বাঁশখালী উপজেলায় আবাদ ও ফলন ধারাবাহিকভাবে কমছে। কৃষকদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, আগে স্থানীয় বীজ দিয়ে ভালো ফলন হলেও এখন পাতায় মরিচা ধরা এবং ফুল কম আসার কারণে তারা লোকসানের মুখে পড়ছেন। ফলে অনেক কৃষক ফেলন চাষ ছেড়ে উচ্চমূল্যের ফসল হিসেবে তরমুজ ও বিভিন্ন সবজি চাষে ঝুঁকছেন। সীতাকুণ্ড ও মিরসরাই অঞ্চলেও একই প্রবণতা দেখা যাচ্ছে।

কৃষি কর্মকর্তারা বলছেন, জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে শীতের শেষে হঠাৎ বৃষ্টি বা তাপমাত্রা বৃদ্ধি পাওয়ায় ফুল ঝরে যাচ্ছে। এছাড়া বছরের পর বছর একই বীজ ব্যবহারের ফলে রোগবালাইয়ের প্রকোপ বাড়ছে। গবেষণায় দেখা গেছে, তাপমাত্রা ও আর্দ্রতার ঊর্ধ্বগতি ডাল উৎপাদনে নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে। তবে সন্দ্বীপ ও ফটিকছড়ির মতো কিছু এলাকায় এখনো ফেলন চাষ টিকে আছে।

চট্টগ্রামের কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক আপ্রু মারমা জানান, কৃষকরা অধিক লাভের আশায় তরমুজ ও সবজি চাষে আগ্রহী হওয়ায় ফেলনের আবাদ কমছে। এই পরিস্থিতি উত্তরণে বারি ফেলন-১ ও বারি ফেলন-২ এর মতো উন্নত ও রোগপ্রতিরোধী জাতের বীজ সরবরাহ এবং কৃষকদের আধুনিক প্রযুক্তিতে প্রশিক্ষিত করার ওপর গুরুত্ব দিচ্ছেন বিশেষজ্ঞরা।

সংক্ষেপে:
চট্টগ্রামে গত পাঁচ বছরে ফেলন ডালের উৎপাদন কমেছে প্রায় ২৫ শতাংশ। রোগবালাই ও জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে লোকসান এড়াতে কৃষকরা এখন তরমুজ ও সবজি চাষে ঝুঁকছেন। দুশ্চিন্তায় পড়েছেন স্থানীয় কৃষি কর্মকর্তারা।

Post a Comment

0 Comments